সরকারি কর্মচারীদের বিশৃঙ্খলা রোধে আইন আরো কঠোর করছে সরকার

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ২৭ জুলাই, ২০২৬, ০৮:২৪ এএম
সরকারি কর্মচারীদের বিশৃঙ্খলা রোধে আইন আরো কঠোর করছে সরকার

সরকারি কর্মচারীদের বিশৃঙ্খলা রোধে আইন আরো কঠোর করছে সরকার। ওই লক্ষ্যে সরকারি চাকরি আইন বা সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। আর সংশোধিত অধ্যাদেশের অধীনে সরকারি কাজে বাধা প্রদান, বেআইনি ধর্মঘট ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করা সরাসরি অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। সরকারি কর্মচারীরা কোনোভাবে কাজ বন্ধ রেখে বা অন্য সহকর্মীদের কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করে নিজেদের অধিকার আদায়ের নামে আইন লঙ্ঘন করতে পারবে না। ওসব বিষয়ে অধ্যাদেশে সরকার প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের বিধান রেখেছে। আর তার আওতায় রাখা হয়েছে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিভাগীয় ব্যবস্থা বা বরখাস্তের মতো কঠোর শাস্তির আইন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জনসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক সিদ্ধান ্তযেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। কারণ কার্যকরভাবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা না গেলে সম্ভব হয় না জনসেবা নিশ্চিত করা। তাতে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট দেখা দেয়। যা কোনোভাবে সরকারের কাম্য নয়। আর সেজন্যই সরকার জনসেবা নিশ্চিত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় কঠোর হচ্ছে। জনসেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে শৈথিল্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে মুখোমুখি হতে হবে চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হলে বাধ্যতামূলক অবসর, ২৫ বছর পূর্ণ না হলে সাময়িক বরখাস্তের মতো শাস্তির। ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর সরকারের নেয়া সব সিদ্ধান্ত দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, সরকারের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে সরকারি কর্মচারী নেতারা বিভিন্ন সময় সরকারি চাকরি আইন ও শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘন করে বিশৃঙ্খলা ও কর্মবিরতি পালন করছে। তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ অমান্য করা, সহকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া এবং দলবদ্ধভাবে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার মতো কর্মসূচিও দিচ্ছে। সরকারি সেবায় ওসব পদক্ষেপ সরাসরি ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের কাজে নিয়োজিত প্রত্যেক কর্মীকে তার দায়িত্ব পালন করতে হয় নিষ্ঠার সঙ্গে। কিন্তু সরকারি কর্মচারী নেতারা প্রায়ই নিয়মবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন যৌক্তিক বা অযৌক্তিক দাবিতে সচিবালয়ে আন্দোলন ও কর্মবিরতির ডাক দেয়। ওই ধরনের কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি। এমনকি সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের পোস্টার-ব্যানার ছাপিয়েও সচিবালয়ের ভেতরে এবং বাইরে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। আর ওসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছে রাজনৈতিক দলের নেতারাও। 

সূত্র আরো জানায়, সরকারি কোনো কর্মচারীর সরকারের কোনো কোনো সিদ্ধান্ত, আদেশ বা সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন হওয়ার আগেই ওই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপ মন্তব্যসহ বিবৃতি প্রকাশ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার পরিপন্থী। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালাতে উল্লেখ আছে, কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের অথবা কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত বা আদেশ পালনে জনসমক্ষে আপত্তি উত্থাপন করতে বা যেকোনো প্রকারে বাধা প্রদান করতে পারবে না অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে তা করার জন্য উত্তেজিত বা প্ররোচিত করতে পারবেন না। তাছাড়া সরকারের বা কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত বা আদেশ সম্পর্কে জনসমক্ষে কোনো অসন্তুষ্টি বা বিরক্তি প্রকাশ করতে অথবা অন্যকে তা করার জন্য প্ররোচিত করতে অথবা কোনো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে বা অন্যকে অংশগ্রহণ করার জন্য প্ররোচিত করতে পারবেন না।

এদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি নুরুল ইসলাম জানান, সরকারি কর্মচারীরা সব নিয়ম মেনেই সচিবালয়ে কর্মচারীদের দাবি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। সেক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ ও ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর বিধানাবলি লঙ্ঘিত হয় না।

অন্যদিকে জনপ্রশাসন বিভাগ সংশ্লিষ্টদের মতে, বিভিন্ন পদমর্যাদার কিছু সরকারি কর্মচারী সমপ্রতি বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সমাবেশ, অবস্থান ধর্মঘট, মানববন্ধন, কলমবিরতিসহ বিবিধ কর্মসূচি পালনে সরকারি কর্মচারীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ওসব কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে জনসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। ওসব কর্মসূচির কারণে সচিবালয়ের বাইরে বিশেষ করে ডিসি অফিস এবং ইউএনও অফিসে ভোগান্তিতে পড়ছে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন কারণে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ ও ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর বিধানাবলি লঙ্ঘিত হচ্ছে। শুধু পে-স্কেল নয়, বিভিন্ন  রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সমন্বয়ে একাধিক সংগঠন সচিবালয়ের অভ্যন্তরে আইন লঙ্ঘন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। ওসব কর্মসূচির মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ অমান্য করা হচ্ছে। সহকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে তাদের জোর করে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে। যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীরা সপ্তাহে সাত দিন কাজ করে। সরকার গঠনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণের পাইলট কর্মসূচির সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একইভাবে খাল কাটার পাইলট কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলে জনসেবা ব্যাহত হয়। যেকোনো মূল্যে দ্রুততম সময়ে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে