টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে ৩ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

এফএনএস (প্রতিবেদক):
| আপডেট: ২৮ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম | প্রকাশ: ২৮ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে ৩ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে এমন ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। এ বিষয়ে তদন্ত করতে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি পঠনের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

এর আগে বিষয়টি তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চান তিনি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট টুথপেস্ট বাজার থেকে প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হবে।

গত ২৬ জুলাই রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর (SDO) প্রধান কার্যালয়ে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত ওই গবেষণায় ভোক্তা জরিপ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক ও বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৮টিতে এ ধরনের কণা পাওয়া যায়নি। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত টুথপেস্ট পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে ১টিতে, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টিতে এবং ভিয়েতনামের ২টির সবকটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হিসেবে গবেষণায় বলা হয়েছে, শিশুদের জন্য বাজারজাত করা ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এসব নমুনায় প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গবেষণাটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (EHE)’ ল্যাবরেটরিতে পরিচালিত হয়। এতে স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি এবং ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (FTIR) স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে ভোক্তারা পণ্যের উপাদান সম্পর্কে জানতে পারছেন না এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষেও কার্যকর নজরদারি পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশ্বব্যাপী মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে গবেষণা হলেও, বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে