মোরেলগঞ্জে পিএফজি’র উদ্যোগে সম্প্রীতির সমাবেশ

এফএনএস (শেফালী আক্তার রাখি; মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট):
| আপডেট: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম | প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
মোরেলগঞ্জে পিএফজি’র উদ্যোগে সম্প্রীতির সমাবেশ

“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে শান্তি, সহনশীলতা ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক “সম্প্রীতির সমাবেশ”অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন সভাকক্ষে মোরেলগঞ্জ পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 'দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ'-এর ‘মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি’ (গওচঝ) প্রকল্পের আওতায় এবং এফসিডিও (ঋঈউঙ)-র আর্থিক সহায়তায় অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়িত হয়।

মোরেলগঞ্জ পিএফজির কো-অর্ডিনেটর মোঃ ফারুক হোসেন সামাদের সভাপতিত্বে এবং পিএফজি অ্যাম্বাসেডর বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন তালুকদারের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন ফকির, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পিএফজি অ্যাম্বাসেডর এম. কে. আজিজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ নিহার হালদার, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এস এম শাহিন আহমেদ, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সোহেল রায়হান, থানা মহিলা দলের সভাপতি শাহিন ফেরদৌসী হ্যাপি,উপজেলা মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক নাসরিন নাহার শিল্পী, উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রেজা, জেএসডির সভাপতি আব্দুল লতিফ খান, কমিউনিস্ট পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান লাকি, ইমাম মনিরুজ্জামান হাওলাদার, পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী, সাংবাদিক শেফালী আক্তার রাখিসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ ও তরুণ সমাজ।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ফারুক হোসেন সামাদ বলেন, “মোরেলগঞ্জের শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ধর্ম, মতাদর্শ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে পারি। সম্প্রীতির এই বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে মোরেলগঞ্জকে একটি অনুকরণীয় উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

সমাবেশে বক্তারা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ধর্ম বা রাজনৈতিক মতের ভিন্নতা মানুষকে বিভক্ত করার কারণ হতে পারে না; বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই সহিংসতামুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। সমাবেশ শেষে উপস্থিত সকল প্রতিনিধি ধর্ম-বর্ণ ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার মাধ্যমে একযোগে “সম্প্রীতির মোরেলগঞ্জ”গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এমআইপিএস প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. রেজবিউল কবির।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে