কাপাসিয়ায় শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে মানববন্ধন

এফ এম কামাল হোসেন; কাপাসিয়া, গাজীপুর
| আপডেট: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০৭:২০ পিএম | প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
কাপাসিয়ায় শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে মানববন্ধন
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার রমিতা ইসলামের বিরুদ্ধে বেসরকারি গণমাধ্যম ও ফেসবুকে মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে করে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ। ২৯ জুলাই বুধবার সকাল ১১টায় কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে শিক্ষা অফিসের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে শিক্ষকগণ নিন্দা ও প্রতিবাদ সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। সকাল ১১ টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলে মানববন্ধন কর্মসূচী। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণ মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেন। হরিমঞ্জুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের পরিচালনায় মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেগুনহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুসলিমা আক্তার সুইটি, দেওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন, কাপাসিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিলী নাসরিন, রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসী জিনু, ধরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুল ইসলাম, পাবুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদা বেগম, বারাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন, হিজলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম, একডালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাকির হোসেন কিরন, রাওনাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন, নল গাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এসএম শফিকুল ইসলাম, কামারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ। এ সময় মানববন্ধনে শিক্ষকগণ বলেন, কাপাসিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার রমিতা ইসলাম একজন সৎ, দক্ষ, যোগ্য শিক্ষা অফিসার। তিনি একজন মানবিক ও শিক্ষক বান্ধব অফিসার। তিনি ২০১৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা পালন করায় জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ উপজেলা শিক্ষা অফিসার নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে একটি সুবিধাবাদী কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন যাবত নানা ধরনের মিথ্যা ও মনগড়া অপপ্রচারে লিপ্ত। তারই ধারাবাহিকতায় বেসরকারি গণমাধ্যম ও ফেসবুকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত আজগুবি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষক সমাজ এসব ভিত্তিহীন বানোয়াট সংবাদের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আরো বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সাংবাদিকদের শিক্ষার হাতেখড়ি এই প্রাথমিক বিদ্যালয়। আমরা শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুদের কাছে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের প্রত্যাশা করি। ‎এ দিকে কাপাসিয়া উপজেলার সোনারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এড়িয়ে যাওয়া, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ভিডিও দেখার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন অভিভাবক। ‎অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে গত মঙ্গলবার সকালে তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিদ্যালয়ে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। ‎জানা গেছে, গত ২৫ জুন ২০২৫ তারিখে সোনারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবকের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা, ক্লাসে অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়। ‎অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে কাপাসিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. লুৎফুন নেছার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মনিরা খাতুন ও আরিফুল ইসলাম। তদন্ত কমিটি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগকারী অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করেন। ‎অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন। অনেক সময় তিনি নিয়মিতভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়াই ছুটি কাটানোর অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। ‎অভিযোগকারীদের আরও দাবি, শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষককে সালাম দিলে তিনি অনেক সময় তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং বকাঝকা করে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মারধর ও অশালীন ভাষায় কথা বলার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ‎এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে বসে মোবাইল ফোনে উচ্চ শব্দে আপত্তিকর ভিডিও দেখার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। ‎স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের আচরণ ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে কেউ কথা বললে ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন। ‎অভিযোগে শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব মামলার প্রকৃতি ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ‎এদিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও কাপাসিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. লুৎফুন নেছা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে