বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিয়ে গণভোটে জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
জামায়াতের আমির জানান, “যারা নিজেদের গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বলে দাবি করে, তাদের জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় নিশ্চিত করতে হবে।”
জামায়াত আমির অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমান সরকারের সময়েও পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ হয়নি, বরং তা আরও বেড়েছে। সরকারি দলের লোকজনই পরিবহন শ্রমিকদের হয়রানি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত।”
একইসঙ্গে প্রশ্ন তুলে বলেন, “সরকারের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশনা থাকলে এসব অনিয়ম কেন বন্ধ হচ্ছে না। জুলাই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি প্রাণ দিয়েছেন শ্রমিকরা, এরপর ছাত্র জনতা, তাই তাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকতে হবে।”
শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন সরকার অন্যায়ভাবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে সেই সিদ্ধান্তের কয়েক দিনের মধ্যেই সরকার ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। জনগণের আন্দোলন ও আল্লাহর ইচ্ছার কারণেই তা সম্ভব হয়েছিল। ২০২৪ সালের আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে শ্রমিক সমাজ। জাতিসংঘের তথ্য মোতাবেক, প্রায় এক হাজার ৪০০ শহীদের মধ্যে পেশাভিত্তিক হিসেবে শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি। এরপর ছাত্র এবং সাধারণ জনগণ সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করেছেন।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কমেনি, বরং বেড়েছে। পরিবহণ শ্রমিকরা এখনো চাঁদাবাজদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, গাড়ি ভাঙচুরসহ নানা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। সরকারের এক জ্যেষ্ঠ নেতাও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন। যখন ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিলেন, তখন কি এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিকতা থাকে? নৈতিক দিক থেকে সরকার দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে।
পরিবহণ শ্রমিকদের ১২ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় এসব দাবি উত্থাপন করতে হচ্ছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী পাশে থাকবে।
জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে কেউ যেন একক দাবি না করে, সে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো দলের ছিল না; এটি পুরো জাতির আন্দোলন। আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।