প্রশাসনের উচ্চপদে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নতুন পদায়নের ক্ষেত্রে কর্মদক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। মূলত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনকে আরো গতিশীল ও কার্যকর করতেই সততা, দক্ষতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনের পদে নিয়োগ দেয়ার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাদারিকে নিয়োগ ও পদোন্নতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে ওই পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছে। যেসব সচিবের চাকরির মেয়াদ বা চুক্তির মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষের পথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের স্থলে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই সচিব পর্যায়ের এই রদবদলের আদেশ জারি হতে পারে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পদোন্নতি, দপ্তর পরিবর্তন, অবসর গ্রহণ ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ওই চারটি প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে ৬ থেকে ১০টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, ভূমি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে দেখা যেতে পারে নতুন মুখ। বর্তমানে সরকারের ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। আর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত মোট ৮৪ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার মধ্যে ১০ জন কর্মকর্তা বর্তমানে কোনো দপ্তরের দায়িত্বে নেই। তাঁদর মধ্যে ৯ জনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৭ জুলাই অবসরে যাচ্ছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব। আর অক্টোবরে নিয়মিত অবসরে যাচ্ছেন অর্থসচিব। তবে সরকার ওই দুজনকেই দিতে পারে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। তাছাড়া বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া প্রথমে রাষ্ট্রপতির সচিব, পরবর্তী সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সর্বশেষ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের চুক্তির মেয়াদ আগস্টের প্রথম সপ্তাহে শেষ হচ্ছে । সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ওই দুটি পদেও নতুন মুখ আসতে পারে। তাছাড়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ভূমিসচিবের চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়িয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হতে পারে। আর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন সচিব হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সাবেক এক শিল্পসচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়ের এবং স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা-পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাছাড়া কয়েকজন অতিরিক্ত সচিবও পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার মধ্যে কয়েকজন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে পুনরায় চাকরিতে ফিরে আসতে পারেন।
সূত্র জানায়, জনপ্রশাসনের দুটি শীর্ষ পদের দুজন কর্মকর্তা বর্তমান সরকার গঠনের আগেই নিজে থেকে সরে গেছে। তাদের একজন হলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং অন্যজন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব। তাছাড়া গত মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের সচিব অবসরে গেছেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আরো কয়েকজন কর্মকর্তা অবসরে যাচ্ছেন। সরকারের লক্ষ্য হলো ওসব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দক্ষ, সৎ ও কর্মক্ষম কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনের কার্যকারিতা আরো বাড়ানো। তাছাড়া বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কয়েকজন সচিব সংযুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি মেধাভিত্তিক ও দক্ষ কর্মকর্তাদের উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে ১৭৯ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় ধরনের পদোন্নতি।
এদিকে এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক জানান, প্রশাসনে নিয়োগ, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। সারা বছরই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এ কর্মকান্ড চলমান থাকে। তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বা চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো বা না বাড়ানোর বিষয়টি নির্ভর করে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর।