"কীভাবে যে ওই সময়টা পার করেছি, সেটা ভাবলে এখনো গা শিউরে ওঠে,"জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আদাবর থানার শ্যামলী এলাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে এ প্রতিবেদককে বলছিলেন কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার মহিনন্দ চরপাড়া গ্রামের সন্তান তরুণ সবজি ব্যবসায়ী মো : শহিদ মিয়া।
সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে ২০২৪ সালে জুনে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করার দেড় মাসের মাথায় সেটি ঘিরে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে শুরু করে। ১৮ই জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এলে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় ঢাকার বাড্ডা, রামপুরা, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর,আদাবরসহ বিভিন্ন এলাকা রীতিমত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুও মুখ থেকে বেঁচে আসা জুলাই যোদ্ধা মো: শহীদ মিয়া বলেন, জীবিকার তাগিদেই গ্রাম থেকে আমার ঢাকা আসা। পাঁচ ভাই পাঁচ বোনের পরিবারের খরচ মেটাতে আসি। কাঁচা মালের ব্যবসা শুরু করি শ্যামলিতে। সেদিন ৫ আগষ্ট শ্যামলী সিনেমা হলের পেছনে শ্যামলী বাজারের সামনে অবস্থান করছিলাম। বিএনপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভাইরাসহ সকর স্তরের জনতা উপস্থিত ছিলেন সে আন্দোলনে। এক পর্যায়ে চলে তূমুল সংঘর্ষ। পুলিশের ছোড়া গুলিতে আমি গুরুতর আহত হই। আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে মাথা হাত পিটে ১৮০টি গুলিবিদ্ধ হই। প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডাঃ মোঃ মাহফুজুর রহমান খানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেই। পরে প্রাইম অর্থপেডিক্স ও জেনারেল হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নেই। অনেক গুলি শরীর থেকে বের করলেও মাথার ভেতরের গুলিটি আজও বের করতে পারছি না। মাঝে মাঝে প্রচন্ড ব্যথা করে। জুলাই যোদ্ধা মো: শহীদ মিয়া বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিন যথাযথভাবে চিকিৎসাও করাতে পারিনি ভয়ে। যদি প্রকাশ পেয়ে যাই বিপদ হতে পারে ভয়ে। কিন্ত এভাবে আমার আরও ব্যথা বাড়ে। সঠিকভাবে উন্নত চিকিৎসা দরকার। আর্থিক অবস্থা ভালো নয় বিধায় উন্নত চিকিৎসাও করাতে পারিনি। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জুলাই আন্দোলনে আহতদের তালিকা প্রকাশিত হলে আমার নামটি নেই দেখে আরও মর্মাহত হই।। কিন্ত জুলাইযোদ্ধা বন্ধুদের পীড়াপীড়িতে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার আজিমপুরে জনসংখ্যা অফিসের নীচতলা ভবনে ঢাকা সিভিল সার্জন বরাবরে “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ব্যক্তির তথ্য সফটওয়ারে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য” আবেদন করি। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঢাকা ও আমার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন দিলেও আজও আলোর মুখ দেখতে পাচ্ছি না। স্বীকৃতি না পাই অন্তত ভালো চিকিৎসা পাই সেটিই এখন তাঁর দাবী।