পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর কচা নদীর তীরে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত কিশোরের অর্ধগলিত লাশের বিষয়ে ঢাকা প্রতিদিন ও ফেয়ার নিউজ সার্ভিস এ প্রকাশিত সংবাদ দেখে নিহত কিশোরের বাবা-মা থানায় হাজির হয়ে লাশটি তাদের ছেলে রাজের বলে দাবি করেছে সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকালে রাজের বাবা-মা পাড়েরহাট নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে আসেন। তারা জানান, ৯ বছর বয়সী রাজ গত ২২ নভেম্বর নিখোঁজ হয়। এ নিয়ে তারা মোল্লারহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ছেলের সন্ধান না পেয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত লাশের খবর এবং বর্ণনা দেখে তারা এটিকে তাদের সন্তানের লাশ বলে মনে করছেন। লাশের হাতে থাকা ব্যান্ডেজ এবং পরনে থাকা কালো হাফপ্যান্ট ও গেঞ্জি দেখে রাজের বাবা-মা নিশ্চিত হন এটি তাদের ছেলে। নৌ পুলিশ জানিয়েছে, রাজের বাবা-মায়ের দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে তাদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একইসঙ্গে উদ্ধার হওয়া লাশের ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ডিএনএ ফলাফল পাওয়ার পর লাশের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। পাড়েরহাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুস সালাম বলেন, লাশটি কয়েকদিন পানিতে থাকায় চেহারা বিকৃত হয়েছে। তবে পরিবারের সরবরাহকৃত তথ্য এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। রাজের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার ছেলের হাতে ব্যান্ডেজ ছিল। লাশের কাপড় এবং ব্যান্ডেজ দেখেই আমি বুঝতে পেরেছি, এটা আমার রাজ। উল্লেখ্য, শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার চরবোতলা এলাকায় কচা নদীর তীরে অজ্ঞাত এক কিশোরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় লাশটি পৌর শহরের সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়।