জনস্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
জনস্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগ্রহীত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি যতদিন টিকে থাকবে, ততদিন দেশের জনগণের জন্যই কাজ করবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করা হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। এর আগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণের সমর্থন সরকার গঠন করেছে। এই সমর্থন দিয়ে আপনারা আস্থা রেখেছিলেন বিএনপির ওপরে। পরিষ্কারভাবে আমি বলে দিতে চাই, ইনশাল্লাহ আপনারা আস্থা ধরে রাখুন। বিএনপি আপনাদের সঙ্গে ছিল, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে থাকবে।”

তিনি বলেন, “বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের জন্যই কাজ করবে, যতদিন বিএনপি টিকে থাকবে ইনশাল্লাহ; দেশ এবং জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না।”

রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিষয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু ব্যক্তি রাস্তায় ও রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি ও জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে এতে বিশৃঙ্খলাকারীরাই উপকৃত হয়।

এ সময় তিনি বলেন, “দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, যারা জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, তাদেরকে জনগণ সকল শক্তি নিয়ে প্রতিরোধ করবে।”

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ এখন শান্তি, আইনের শাসন, কর্মসংস্থান, সন্তানদের জন্য শিক্ষা এবং পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসুবিধা চায়। এসব কাজ বাস্তবায়নে ধৈর্য ধরার পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশকে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

নারীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনার্স পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার সব খরচ সরকার বহন করবে। ভালো ফল করা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই নারী সমাজকে পিছিয়ে রেখে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই নারীদের শিক্ষায় এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুকে বিনা মূল্যে স্কুলের ড্রেস ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবছর নতুন বই দেওয়ার পাশাপাশি স্কুলব্যাগ ও স্কুল ড্রেসও পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন, পর্যায়ক্রমে তাঁদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে। আগামী অধিবেশনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০ বছরের পরিকল্পনা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে পুনর্গঠনের কাজ চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “এই দেশের মালিক জনগণ, কাজেই এ দেশকে সমৃদ্ধ করতে হলে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।”

পাকুন্দিয়ার কর্মসূচিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সভাপতিত্ব করেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান ও মো. জালাল উদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পাকুন্দিয়ার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদি কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। এরপর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে গিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন ও জাতীয় মৎস্যপদক বিতরণ করার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। পরে শোলাকিয়া মাঠে বৃক্ষরোপণ এবং কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে