পটুয়াখালীর গলার কাঁটা চৌরাস্তার ঝুঁকিপুর্ন ফুটওভার ব্রিজ

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) :
| আপডেট: ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম | প্রকাশ: ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
পটুয়াখালীর গলার কাঁটা চৌরাস্তার ঝুঁকিপুর্ন ফুটওভার ব্রিজ

পটুয়াখালী শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম চৌরাস্তার ফুটওভার ব্রিজটি এখন নিরাপদ সড়ক পারাপারের পরিবর্তে জনদুর্ভোগ ও আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রায় ১১ বছর আগে নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে নির্মিত ব্রিজটি দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবৈধ দখল, ময়লা-আবর্জনা, অপর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তাহীন পরিবেশ। ফলে অধিকাংশ পথচারী ব্রিজ ব্যবহার না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়ক পারাপার করছেন।

জানা যায়, ২০১৫ সালে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালী শহরের কেন্দ্রস্থল চৌরাস্তায় ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল ব্যস্ত সড়কে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনা কমানো। কিন্তু নির্মাণের পর দীর্ঘ সময়ে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের উভয় পাশের সিঁড়ির মুখেই বসেছে বাজারসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান। এতে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সিঁড়ির ধাপ ও ব্রিজের বিভিন্ন স্থানে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। কোথাও দেখা যায় প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য, কোথাও দুর্গন্ধে পরিবেশ অসহনীয়। ফলে অনেক পথচারী ব্রিজ ব্যবহার না করে সরাসরি ব্যস্ত সড়ক পার হচ্ছেন। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।

ব্রিজটির কাঠামোগত অবস্থাও উদ্বেগজনক। বিভিন্ন স্থানে পাটাতনে মরিচা ধরে ফুটো তৈরি হয়েছে। রেলিংয়ের কিছু অংশ ভেঙে গেছে এবং কোথাও কোথাও লোহার ধারালো অংশ বাইরে বেরিয়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য জোরে বাতাস বইলেই ব্রিজটি দুলতে থাকে। কয়েকদিন আগে ব্রিজের একটি লোহার অংশ ভেঙে নিচে চলন্ত একটি বাসের ওপর পড়ে। এতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় ব্রিজটি নেশাখোর ও ছিনতাইকারীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। সন্ধ্যার পর অনেকেই নিরাপত্তার শঙ্কায় ব্রিজ ব্যবহার এড়িয়ে চলেন।

মো,শামীম নামে এক পথচারীরা জানান, নিরাপদে রাস্তা পার হওয়ার জন্যই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন এটি ব্যবহার করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সিঁড়ির মুখে দোকানপাট, ময়লা-আবর্জনা ও ভাঙাচোরা অবস্থা মানুষকে নিরুৎসাহিত করছে। তাই বাধ্য হয়ে তারা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে ব্রিজটি সংস্কার করে দখলমুক্ত করতে হবে এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

হুমায়ুন নামে আরেক পথচারী অভিযোগ করে বলেন, রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও নিয়মিত নজরদারির অভাবে ফুটওভার ব্রিজটি মাদকাসক্তদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। এতে সন্ধ্যার পর ব্রিজ ব্যবহার করতে ভয় পান অনেক পথচারী, বিশেষ করে নারী ও বয়স্করা। তাদের দাবি, নিয়মিত টহল, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হলে ব্রিজটি আবার নিরাপদভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বলেন, ব্রিজের এমন বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ এটি ব্যবহার করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। দ্রুত সংস্কার করা হলে পথচারীরা আবার ব্রিজ ব্যবহার করবেন এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা বলেন, ফুটওভার ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছেন। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে পৌরসভা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

নগরবাসীর দাবি, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে অবহেলায় নষ্ট হতে দেওয়া উচিত নয়। দ্রুত সংস্কার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং দখলমুক্ত করে ব্রিজটিকে ব্যবহার উপযোগী করা হলে যেমন জনদুর্ভোগ কমবে, তেমনি ব্যস্ত এই সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে