গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বীর উজলী মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাফসিরুল ইসলাম অনন্ত (১৪) নিখোঁজ হওয়ার মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে বীর উজলী বাজারের একটি দোতলা ভবনের ছাদ থেকে তার রক্তমাখা শার্ট, প্যান্ট, জুতা ও স্কুলের আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য ও উৎকণ্ঠা।
এদিকে নিখোঁজ তাফসিরুল ইসলাম অনন্ত টোক ইউনিয়নের ডুমদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার সোহাগ খানের দ্বিতীয় ছেলে।
এ বিষয়ে সোহাগ খান জানান, ছেলেকে খোঁজে না পেয়ে তিনি কাপাসিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে টোক পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা জানায়, ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দুপুর ২টার দিকে অনন্তকে সর্বশেষ দেখা যায়।
এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর, অর্থাৎ আড়াইটার দিকে বীর উজলী বাজারের ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিন তার দোতলা ভবনের ছাদে রক্তমাখা পোশাক, জুতা ও আইডি কার্ড পড়ে থাকতে দেখেন।
এদিকে অনন্তের সন্ধান না মেলায় তার পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। দ্রুত নিখোঁজ ছাত্রকে উদ্ধারের পাশাপাশি ছাদ থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তমাখা পোশাক, জুতা ও আইডি কার্ডের উৎস এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বীর উজুলী মডেল একাডেমীর সহকারী শিক্ষক মনির হোসেন জানান, মঙ্গলবার টিফিনের সময় ক্লাস থেকে বের হয় অনন্ত। এরপর সে আর ফিরে আসেনি।
পরে শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের অন্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজেও তাকে পায়নি।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, অনন্ত এই প্রতিষ্ঠানে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। তার শ্রেণী রোল নম্বর ৩। সে অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। টিফিনের সময় বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরে স্থানীয় লোকজন জানায়, স্কুলের কাছেই একটি ভবনের ছাদে রক্তমাখা জামা-জুতা এবং আইডি কার্ড পাওয়া গেছে।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমদ জানান, এ ব্যাপারে কাপাসিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাফসিরুল ইসলাম অনন্তের সন্ধান পাওয়া যায়নি।