উদ্বোধনের দুই মাসও পেরোয়নি, এরইমধ্যে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং সড়কের পিচ ও পাথর। কোথাও তৈরি হয়েছে গর্ত, কোথাও দেবে গেছে সড়কের প্রান্ত। প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সড়কের এমন পরিণতিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক এতো অল্প সময়েই নষ্ট হলে নির্মাণকাজের মান ও তদারকি নিয়ে জবাবদিহি করবে কে? ঘটনাটি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের।
সূত্রমতে, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। মেসার্স তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টিস্থানে পাথর ও বিটুমিন উঠে গেছে। অথচ সড়কটিতে ভারী যানবাহনের তেমন চলাচল নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্নস্থানে পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নতুন রাস্তা দুই মাসও টিকলো না। এখনই পিচ উঠে যাচ্ছে। কাজ ভালো হলে এমন হওয়ার কথা নয়। সড়কের এমন অবস্থায় নির্মাণকাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের তদারকি নিয়ে স্থানীয়রা নানা প্রশ্ন তুলেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথভাবে কাজ তদারকি করা হলে উদ্বোধনের এতো অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়। এ কারণে উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের তদারকির ভূমিকা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, বৃষ্টির কারণে কয়েকটিস্থানে পানি জমে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি কমলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত করে দেওয়া হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একাংশের মালিক মো. মহিউদ্দিন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি কমলে সেগুলো মেরামত করা হবে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টি যদি দায়ী হয়, তাহলে উদ্বোধনের দুই মাসের মধ্যেই কেন নতুন সড়কের পিচ-পাথর উঠে যাবে? প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের ক্ষেত্রে নির্মাণমান, ব্যবহৃত উপকরণ এবং প্রকৌশল বিভাগের তদারকি যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু দায়সারা মেরামত নয়, সড়কের নির্মাণমান পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ বের করতে হবে। অনিয়ম কিংবা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।