কারা অধিদপ্তরের এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী আবারও নিজের পুরোনো কর্মস্থলে ফিরতে যাচ্ছেন। তাঁকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব বর্তমানে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তবে কোন পদে বা কী দায়িত্বে তিনি যোগ দেবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের শুরুতে এ নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এর আগে তাঁকে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার আলোচনা সামনে এসেছিল। তবে সর্বশেষ আলোচনায় পরামর্শক হিসেবে তাঁকে যুক্ত করার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
নিজের সম্ভাব্য নিয়োগের বিষয়ে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে শামসুল হায়দার সিদ্দিকী বলেন, “আমাকে আইজি প্রিজন্স ফোন করেছিলেন। রোববার (২৩ আগস্ট) সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আলোচনার পর আমার সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন।”
কোনো নির্দিষ্ট পদ বা দায়িত্ব এখনো চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “আগে আলোচনা হোক, তারপর বিস্তারিত বুঝতে পারব। সরকার কোনো দায়িত্ব দিলে তা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করব।”
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে নির্দিষ্ট কোনো পদ উল্লেখ করে তথ্য প্রকাশ না করার জন্যও তিনি অনুরোধ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রোববার (২৩ আগস্ট) সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার পর শামসুল হায়দার সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আলোচনার পর তাঁর দায়িত্ব ও নিয়োগের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলোর ভাষ্য, কারাগারের মতো সংবেদনশীল একটি বিভাগে অভিজ্ঞ, দক্ষ ও মানবিক একজন কর্মকর্তার পরামর্শ কাজে লাগাতে আগ্রহী সরকার। শামসুল হায়দার সিদ্দিকীর কারা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে আবারও যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের আগেই শামসুল হায়দার সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও গোয়েন্দা পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ করছেন।
কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক পদে দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার রীতি রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে এ দায়িত্ব পালন করা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহার হোসেনকে সম্প্রতি প্রত্যাহার করে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তাঁর প্রত্যাহারের পর নতুন আইজি প্রিজন্স নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। সেই আলোচনার মধ্যেই অবসরপ্রাপ্ত মেজর শামসুল হায়দার সিদ্দিকীর নাম সামনে আসে। তাঁকে সরাসরি আইজি প্রিজন্স পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামো নিয়েও সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে সর্বশেষ অবস্থায় পরামর্শক হিসেবে তাঁকে নিয়োগের প্রস্তাবটিই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, এখনো কোনো নির্দিষ্ট পদ বা দায়িত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি।
এক-এগারোয় আলোচনায় আসেন শামসুল হায়দার
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী ওয়ান-ইলেভেনের সময় কারা অধিদপ্তরের ডিআইজি প্রিজন্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় রাজনৈতিক বন্দিদের পাশাপাশি সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা সাব-জেলে বন্দি থাকাকালে কারা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
ওই সময়ের ভূমিকার কারণে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জেল কোড লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁকে ঢাকা বিভাগ থেকে বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কারা অধিদপ্তর থেকে অবসর নেওয়ার পরও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন শামসুল হায়দার সিদ্দিকী। তিনি সরকারি বিল্ডিং ট্রেডসে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া ২০২২ সালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর জেনারেল ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কারা অধিদপ্তরে এ ধরনের দায়িত্বে তাঁর যোগদান হবে নতুন একটি নজির। এর আগে সেনাবাহিনী থেকে প্রেষণে এসে ডিআইজি প্রিজন্স হিসেবে কারা অধিদপ্তরে যোগ দেওয়া প্রথম কর্মকর্তা ছিলেন শামসুল হায়দার সিদ্দিকী।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের শুরুতে প্রজ্ঞাপন জারির পর তাঁর নতুন দায়িত্বের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হবে।