লৌহজংয়ে ইলিয়াস মাঝির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে মানববন্ধন

এফএনএস (আবু নাসের খান লিমন; লৌহজং, মুন্সীগঞ্জ) : | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
লৌহজংয়ে ইলিয়াস মাঝির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে মানববন্ধন

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমায় ইলিয়াস মাঝি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার কলমা বাজারের প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে নিহত ইলিয়াস মাঝির স্বজন,স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তারা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন,জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি করেন। পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইলিয়াস মাঝির মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে।কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীরা যাতে আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।নিহতের বাবা দুলাল মাঝি অভিযোগ করেন,পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইলিয়াস ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। তিনি জানান,ইলিয়াস প্রবাসে থাকাকালে উপার্জিত টাকা স্ত্রীর কাছে রাখতেন।দেশে ফিরে সেই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। দুলাল মাঝির দাবি,প্রায় ছয় মাস আগে টাকার বিষয়কে কেন্দ্র করে ইলিয়াসকে তার স্ত্রীর ভাইয়েরা মারধর করেছিলেন। তার অভিযোগ, ইলিয়াস আত্মহত্যা করেননি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় ইলিয়াসের স্ত্রীও জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট অন্য কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মানববন্ধনে নিহতের বাবা দুলাল মাঝি,ভাই শাহাদাত হোসেনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বক্তব্য দেন। বক্তারা ইলিয়াসের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুন ইলিয়াস মাঝির নিজ ঘর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্র জানায়,মরদেহটি কয়েকদিন পর উদ্ধার হওয়ায় তখন পচে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। ইলিয়াস মাঝি ডহরী গ্রামের দুলাল মাঝির ছেলে এবং পেশায় ব্রুনাই প্রবাসী ছিলেন।তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলের জনক ছিলেন। ঘটনার আগে স্ত্রী ডলি বেগমের সঙ্গে ঝগড়ার পর তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। পরে ইলিয়াস নিজ ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন এবং দুই দিন তাকে বাইরে দেখা যায়নি। ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা প্রবেশ করে দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির সঙ্গে রশি বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। এ অবস্থায় নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড-তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করে দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে