বন্ধ হচ্ছে না মানবপাচার

অবৈধ অভিবাসন রোধে পদক্ষেপ জরুরি

এফএনএস | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
অবৈধ অভিবাসন রোধে পদক্ষেপ জরুরি

বাংলাদেশে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের চাপ থেকে মুক্তি পেতে কিংবা উন্নত জীবনের আশায় অনেকেই যেকোনো মূল্যে বিদেশে যেতে চান। এই প্রবণতাকেই কাজে লাগাচ্ছে মানবপাচারকারীরা। তারা তরুণদের সামনে লোভনীয় চাকরি, উচ্চ বেতন ও উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখায়। বিনিময়ে নেয় মোটা অঙ্কের অর্থ। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্ন পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। বিদেশে গিয়ে অনেকে আটকে পড়েন, জিম্মি হন, মুক্তিপণ আদায়ের শিকার হন কিংবা অপরাধীচক্রের কাছে বিক্রি হয়ে যান। এমনকি অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ বিক্রির মতো ভয়াবহ অভিযোগও রয়েছে। সামপ্রতিক সময়ে গ্রিসের উপকূল থেকে উদ্ধার হওয়া ২০২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে ৭২ জন ছিলেন বাংলাদেশি। আবার লিবিয়া থেকে ৩৪০ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের অনেকেই সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। লিবিয়া-তিউনিশিয়া চ্যানেল এখন মানবপাচারের প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে। পাচারকারীরা প্রথমে দুবাই বা অন্য কোনো শহরে নিয়ে গিয়ে পরে নানা পথ ঘুরিয়ে লিবিয়ায় পাঠায়। পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভ্রমণ ভিসায় দেশ ছেড়েছেন, কিন্তু তাঁদের বড় অংশ আর দেশে ফেরেননি। এই অবৈধ অভিবাসন শুধু ব্যক্তিগত বিপর্যয় নয়, বরং জাতীয় ক্ষতির কারণও। বিদেশে আমাদের শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি বাড়ছে এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা কিংবা বৈধ চাকরির জন্য যারা বিদেশে যেতে চান, তাদের পথও কঠিন হয়ে পড়ছে। মানবপাচারকারীরা আন্তর্জাতিক অপরাধীচক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তাই এ অপরাধ দমনে শুধু প্রচলিত অভিযান নয়, বরং সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। মানবপাচার দমন অভিযান জোরদার করতে হবে, পাচারকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিবাসন প্রক্রিয়া সংস্কার করতে হবে, যাতে বৈধ পথে বিদেশযাত্রা সহজ হয় এবং মানুষ অবৈধ পথে যেতে নিরুৎসাহিত হয়। আমরা মনে করি, মানবপাচার বন্ধ করা শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছারও প্রশ্ন। তরুণদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।