কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত হতে হবে

এফএনএস
| আপডেট: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত হতে হবে

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে। কখনো প্যারাসেইলিং থেকে পড়ে মৃত্যু হচ্ছে পর্যটকদের, আবার কখনো এই প্যারাসেইলিং থেকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হচ্ছেন অনেকে। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও টনক নড়ছে না প্রশাসনের। সম্প্রতি কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর এলাকায় অবস্থিত সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং পয়েন্টে প্যারাসেইলিং করার সময় আকাশ থেকে ছিটকে সমুদ্রের পানিতে পড়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম শৌভিক রায়। তিনি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বানিয়াখামার এলাকার স্যার ইকবাল সড়কের বাসিন্দা শেখর রায়ের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্যারাসেইলিং চলাকালে হঠাৎ তিনি নিরাপত্তা সরঞ্জাম থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় নিহতের সহযাত্রী, স্বজন ও সফরসঙ্গীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেলিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ এক যুগ ধরে দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করে আসছে। প্রায় সময় প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে পর্যটক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের কাছে প্যারাসেইলিং জনপ্রিয় হলেও প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এর মূল কারণ হলো, কোনো রকম নিয়মনীতি না মেনে শুধু মুনাফার কথা চিন্তা করে কক্সবাজারের প্রতিষ্ঠানগুলো প্যারাসেইলিং পরিচালনা করে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নেই কোনো আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তার ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর, উদ্ধারকারী জলযান ও প্রাথমিক চিকিৎসাব্যবস্থা। এসব প্রতিষ্ঠান শুধু দড়ি, প্যারাসেইল ও স্পিডবোট দিয়ে প্যারসেইলিং পরিচালনা করছে। দূর্ঘটনার পিছনে আরও কিছুর কারন রয়েছে যেমন, বৈরী আবহাওয়া ও বিপজ্জনক মৌসুমের কারণে জেলা প্রশাসন প্যারাসেইলিং সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে রাইড সচল রাখে। প্রতিকূল বাতাসে রশি ছিঁড়ে যাওয়া বা নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এ ছাড়া অধিকাংশ পয়েন্টে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা সামগ্রী ব্যবহার করা হয় না। লাইফ জ্যাকেট, বেল্ট ও সেফটি হারনেস অনেক পুরোনো ও জরাজীর্ণ। উড্ডয়ন অবস্থায় হঠাৎ করে মূল রশি আলগা হয়ে পর্যটকরা ছিটকে নিচে পড়ে যান। পর্যটনকে নিরাপদ, টেকসই ও দায়িত্বশীল শিল্পে পরিণত করতে হলে ‘দুর্ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া’র সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে ‘দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে’, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটকদের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্নটি থাকার পরও প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।