পরিকল্পিত নগরায়ন ও সমন্বিত উন্নয়নে সিউকের যাত্রা শুরু

আগামী শীত থেকেই মেগা প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে: আব্দুল মুক্তাদির

এফএনএস (এইচ এম শহিদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
আগামী শীত থেকেই মেগা প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে: আব্দুল মুক্তাদির

পরিকল্পিত নগরায়ন, সুষম অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টায় সিলেট নগরীর নাইওয়ারপুরে কর্তৃপক্ষের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য সুধী সমাবেশ।

সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি বলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আন্তঃসমন্বয়ের অভাবে অতীতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নগরবাসীকে বারবার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, গ্যাস ও পানির পাইপলাইন কাটা এবং পুনঃস্থাপনের মতো ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এতে অর্থ ও সময়ের অপচয় হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত নকশা ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এ ধরনের উন্নয়নজনিত জটিলতা বন্ধ করে সিলেটের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করাই হবে সিউকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ঘোষণা দেন, আগামী শীতের শুরু থেকেই সিলেট বিভাগ ও নগরীর বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে। তিনি জানান, সিলেট বিভাগের চার জেলার প্রতিটি উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক পুনর্র্নিমাণ ও আধুনিকায়নে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প সরকারের অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এ ছাড়া নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ীভাবে নিরসনে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটির ভৌত কাজ শিগগিরই মাঠপর্যায়ে শুরু হবে বলে জানান তিনি। নগরবাসীর বিনোদন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সিলেট পুরাতন কারাগারের জায়গায় একটি দৃষ্টিনন্দন ও বৃহৎ পার্ক নির্মাণের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পার্কটি নগরের ‘ফুসফুস’ হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, এমপি বলেন, সিলেটকে মাস্টার প্ল্যানের আওতায় এনে আধুনিক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই অবকাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সিলেটের পাহাড়-টিলা ও জলাশয় সংরক্ষণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন এবং অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ বন্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। জাকারিয়া তাহের আরও বলেন, গত ১৭ বছরে মেগা প্রকল্পের নামে অর্থের অপচয় ও পাচার হলেও কাঙ্ক্ষিত টেকসই নগরায়ন হয়নি। বর্তমানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভাগীয় শহরগুলোতে মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে।

সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে এবং গোলাজার আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি, সংসদ সদস্য তাহসিনা রূশদী লুনা (সিলেট-২), এম এ মালিক (সিলেট-৩) এবং অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী (সিলেট-৬)। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, এসএমপি পুলিশ কমিশনার সরোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জালালাবাদ গ্যাস লিমিটেডের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে নগরীর দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে