জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ৮৬৬ জন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসার স্থল ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সক। সেখানে অনুমোদিত জনবলের অর্ধেক দিয়েই প্রতিদিনের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ৩৯টি অনুমোদিত পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২০ জন চিকিৎসক। ফলে ১৯টি পদই শূন্য পড়ে থাকায় প্রতিদিন হাজারো রোগীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে গিয়ে প্রচণ্ড বেগ পেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান শাখা সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত (সরকারি ছুটির দিন বাদ দিয়ে) মোট সাত কার্যদিবসে বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন ৩ হাজার ৮৫০ জন রোগী। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন। এছাড়া গত জুলাই মাসে বহির্বিভাগে ৯ হাজার ৭৭১ জন এবং জরুরি বিভাগে ১ হাজার ৯০০ জন রোগী সেবা গ্রহণ করেছেন।
হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে কর্মরত ২০ জন চিকিৎসকের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একজন, কনসালট্যান্ট চারজন, মেডিকেল অফিসার ১১ জন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) একজন, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক একজন এবং ডেন্টাল সার্জন দুইজন।
অন্যদিকে, শূন্য থাকা ১৯টি পদের মধ্যে মেডিকেল অফিসার বা সহকারী সার্জনের ১২টি এবং জুনিয়র কনসালট্যান্টের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে। বিশেষ করে শিশু বিশেষজ্ঞ, চর্ম ও যৌন এবং কার্ডিওলজি (হৃদরোগ) বিষয়ে কোনো চিকিৎসক নেই। এসব বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা জটিল রোগীদের সরাসরি জেলা সদরের হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিকিৎসকের পাশাপাশি সার্জারি ও অপারেশন সেবাতেও রয়েছে তীব্র জনবল ঘাটতি। হাসপাতালে একজন সার্জারি চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও নেই কোনো অবশকারী (এনেস্থিসিয়া) চিকিৎসক। ফলে জরুরি বা পূর্বনির্ধারিত অপারেশনের প্রয়োজন হলে পার্শ্ববর্তী পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এনেস্থিসিয়া চিকিৎসক ধার করে এনে অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। এই প্রতিকূলতার মধ্যেও হাসপাতালে মাসে গড়ে ১৫টি গাইনি অপারেশন সম্পন্ন করা হচ্ছে।
তবে কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে ডেন্টাল (দাঁত) বিভাগে। সেখানে অনুমোদিত দুইটি পদে দুইজন ডেন্টাল সার্জনই কর্মরত আছেন এবং নিয়মিত চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। যদিও ডেন্টাল টেকনোলজিস্টের একমাত্র অনুমোদিত পদটি খালি থাকায় প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তায় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি চরম ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাঁচটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। ফলে পুরো হাসপাতাল চত্বর ও ওয়ার্ডসমূহ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যাপক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলী হোসেন শাহ জানান, সীমিত জনবল নিয়েই আমরা রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন করা হলে এ অঞ্চলের রোগীদের আরও উন্নত ও বিস্তৃত পরিসরে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।