পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীদাসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টায় স্কুল চত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে এই মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনের সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম তার লোকজন নিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন,আবু সাঈদ,রেজাউল করিম,হেলাল উদ্দিন,জিন্নাহ আলী,সাদ্দাম হোসেন,আলমগীর হোসেন,সুখজান খাতুন,আজেদা খাতুন,শিউলী খাতুন প্রমুখ।
শ্রীদাসখালী গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ এই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা,দাতা সদস্য ওসমাণ গণির নাম মুছে ফেলা,অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেন।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাবনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার,চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট এলাকাবাসীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগের তদন্ত অনুষ্ঠিত হয় গতকাল সোমবার। উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আসলাম হোসাইণ ও সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম এই তদন্ত করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে,ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম চরম স্বেচ্চাচারিতার মাধ্যমে স্কুল পরিচালনাসহ নানা অনিয়ম করছেন। তিনি নিধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে আসেন না,পালন করা হয়না কোন জাতীয় দিবস,স্কুলের উন্নয়ন ও অন্যান্য বিষয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাত করেছেন। শিক্ষার্থী বিহীন স্কুলের এই শিক্ষক বিদ্যালয়ের ক্যাসমেন্ট এলাকার বাইরে থেকে অভিভাবক সদস্য নির্বাচন করেছেন। বিদ্যালয়ের ৫ বছরের কম বয়সী কোন শিশুকে ভর্তি করার অনুমতি না থাকলেও তিনি ৩ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের ভর্তি করেছেন,স্কুলের শিক্ষার্থী খাতা কলমে ৬০/৬২ জন দেখানো হলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০/২৫ জন মাত্র। তিনি এসএমসি গঠণে অনিয়ম করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে,স্কুলের একজন অভিভাবক ও একজন বিদ্যোৎসাহী সদস্য মাদকসেবী। অনিয়মের মাধ্যমে গঠণ করা হয়েছে এসএমসি। অভিযোগ অস্বীকার করে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান,অভিযোগের কোন সত্যতা নেই।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল গণি জানান,অভিযোগ পাওয়ার পর দু’জন সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। তারা তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।