শিল্প খাতে গ্যাস সংকট

অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ জরুরি

এফএনএস | প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:২৭ এএম
অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ জরুরি

বাংলাদেশের শিল্প খাত বর্তমানে তীব্র গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত। শত শত কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে, বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার বাতিল হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং হাজার হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়ে পড়েছেন। লাখ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন সময় পার করছেন। শিল্পোদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণ, গ্যাস বিল ও শ্রমিকের বেতন পরিশোধের চিন্তায় দিশেহারা। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় এ সংকট আরও প্রকট হয়েছে। এ সংকটের পেছনে রয়েছে জ্বালানি খাতের কারিগরি ও প্রশাসনিক দুর্বলতা। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড এবং আরামকোর কার্গো খালাসে প্রযুক্তিগত দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কোন টার্মিনালে কোন কার্গো খালাসযোগ্য তা আগে থেকে নিশ্চিত না করায় সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর ফলে শিল্প খাতের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সময়মতো পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলো এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। রাজনৈতিক বক্তব্য বা দীর্ঘমেয়াদি আশ্বাসে এ সংকট কাটবে না। দ্রুততম সময়ে দৃশ্যমান সমাধান না এলে শ্রমিকদের কর্মহীনতা সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে। তাই এখনই প্রয়োজন সাহসী ও কার্যকর পদক্ষেপ। প্রথমত, পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কার্গো খালাসে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে বহির্নোঙরে আটকে থাকা এলএনজি দ্রুত খালাস করা যায়। তৃতীয়ত, শিল্প খাতের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাসের ন্যূনতম চাপ নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলন জোরদার করতে হবে। আমরা মনে করি, শিল্প খাতকে সচল রাখতে হলে শুধু আমদানি নির্ভরতা নয়, বরং দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প খাতের সংকট মানে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং শ্রমজীবী মানুষের জীবনে অনিশ্চয়তা। গ্যাস সংকট থেকে উত্তরণ মানে দেশের অর্থনীতি ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন রক্ষা। সরকার দ্রুততার সঙ্গে এ সংকট মোকাবিলা করবে, এটাই প্রত্যাশা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে