ডিজিটাল স্ক্রিনে বন্দি শিশুদের শৈশব

এফএনএস | প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৩১ এএম
ডিজিটাল স্ক্রিনে বন্দি শিশুদের শৈশব

বর্তমান প্রজন্মের রঙিন শৈশব হারিয়ে যাওয়ার পেছনে আমাদের চারপাশের পরিবেশ অনেকটাই দায়ী। আগে সন্ধ্যা হলেই খেলতে যাওয়া শিশুদের দল দেখা যেত। মাঠে কেউ ক্রিকেট খেলত, কেউ ফুটবল, আবার কেউ দল বেঁধে নানা ধরনের খেলায় মেতে উঠত। এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই বদলে গেছে। খেলার মাঠের অভাব এবং শহুরে ব্যস্ততার কারণে অনেক শিশুই ঘরে বসে ভিডিও গেম, কার্টুন কিংবা বিভিন্ন অনলাইন কনটেন্টে তাদের সময় কাটাচ্ছে। প্রযুক্তি অবশ্যই প্রয়োজনীয়, কিন্তু এর অতিরিক্ত ব্যবহার শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দকে ক্রমাগত গ্রাস না করে নিচ্ছে। শিশুদের শৈশব হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পিতা-মাতারও ভূমিকা রয়েছে। অনেকেই শিশুদের ফোনের পর্দার সঙ্গে এতটাই অভ্যস্ত করে ফেলেছেন যে, শিশুরা ধীরে ধীরে বাস্তব পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। শিশুদের বেড়ে ওঠার প্রতিটি মুহূর্ত উপলব্ধি না করে পরে তা স্মৃতি হয়ে থাকবে, এই ভেবে অভিভাবকরা অনেক সময় ক্যামেরায় সেই মুহূর্তগুলো বন্দি করে রাখেন। স্মৃতি ধরে রাখা অবশ্যই সুন্দর; কিন্তু সেই মুহূর্তটিকে সরাসরি অনুভব করার গুরুত্বও আমাদের মনে রাখা উচিত। কারণ ক্যামেরায় একটি মুহূর্ত ধরে রাখা যায়, কিন্তু সেই মুহূর্তের অনুভূতিটা পুনরায় ফিরে পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিকাংশ শিশু এখন হাঁটতে শেখার আগেই স্ক্রিনে অভ্যস্ত হচ্ছে। শিশুরা প্রকৃতি দেখা বা খেলাধুলার চেয়ে বেশি সময় কাটাচ্ছে ভার্চুয়াল দুনিয়ায়। ঢাকার শিশুরা প্রতিদিন গড়ে পাঁচ ঘণ্টা মোবাইল-ল্যাপটপের মতো ডিজিটাল স্ক্রিনে কাটায়। যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ায় এখন ধীরে ধীরে গ্রামের শিশুরাও খেলার সঙ্গী হারাচ্ছে; মোবাইলে হয়ে উঠছে সার্বক্ষণিক সঙ্গী। ফলে শিশুরা চোখের রোগসহ শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। সমপ্রতি আইসিডিডিআরবির গবেষণা বলছে, ঢাকার অনেক শিশু মোবাইল, টিভি, ট্যাব বা কম্পিউটারে অতিরিক্ত সময় কাটাচ্ছে। ফলে তাদের ঘুম কমে যাচ্ছে, ওজন বাড়ছে, মাথাব্যথা ও চোখের সমস্যা হচ্ছে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার ছয়টি স্কুলের (তিনটি বাংলা মাধ্যম ও তিনটি ইংরেজি মাধ্যম) ৬ বছর থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ জন শিশুর ওপর এই গবেষণাটি করা হয়। প্রযুক্তি যেমন বিনোদন ও শেখার সুযোগ তৈরি করে, তেমনই অসচেতন ব্যবহারে ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও শিশুদের ডিজিটাল পরিবেশের সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত গেম বন্ধ করানো নয়, গেমিংয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও নিরাপদ অনলাইন আচরণ তৈরি করা। শিশু যেন জানে, অনলাইনে কেউ তাকে ভয় দেখালে, অস্বস্তিকর কিছু চাইলে কিংবা কোনও সমস্যায় ফেললে চুপ করে থাকার দরকার নেই। বাবা-মা বা বিশ্বাসযোগ্য বড়দের জানানোই প্রথম পদক্ষেপ। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে