আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদন
| আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম | প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু
ছবি: সংগ্রহীত

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে চার সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। টিমটির নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্য তিনজন হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন ও উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।

দুদকের অনুসন্ধানের মূল বিষয় হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। এ অভিযোগের অনুসন্ধানের জন্যই চার সদস্যের বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুদকে আরও বেশ কিছু অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বেআইনি কাজ হাসিলের জন্য ঘুষ গ্রহণ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অর্থপাচার এবং বেআইনি বিটকয়েন লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও দুদকে করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ক্রিকেট বোর্ড গঠনে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ তার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন।

আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও এর আগে দুদক অনুসন্ধান করেছিল। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তদবির-বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রায় ১১ মাস অনুসন্ধানের পর গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে ওই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে মোয়াজ্জেম হোসেনকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তখন তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদবির ও টেন্ডার-বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কথা জানানো হয়। তবে মোয়াজ্জেম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

পরে তার ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি ও অন্যান্য লেনদেন নিয়েও অনুসন্ধান করা হয়। একইসঙ্গে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল দুদক।

এখন আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া নতুন অনুসন্ধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি, কেনাকাটা এবং এসব ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবে দুদকের বিশেষ টিম।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে