লালমনিরহাটে শিশু ধর্ষণ মামলায় সুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

এফএনএস (জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না; লালমনিরহাট) : | প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
লালমনিরহাটে শিশু ধর্ষণ মামলায় সুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

‎লালমনিরহাটে চাঞ্চল্যকর শিশু রিয়ামনি ধর্ষণ মামলার দীর্ঘ আট বছর পর রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসামি সুজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। দ্বন্ডপ্রাপ্ত আসামি সুজন লালমনিরহাট সদর উপজেলার তালুক খুটামারা এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে।

আদালত ও মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৯ সালে। ওই সময় ভুক্তভোগী ৮ বছরের শিশু রিয়ামনি ও তার মা আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে তারা লালমনিরহাট আদালত প্রাঙ্গণের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় সুজন নামের এক ব্যক্তি শিশু রিয়ামনিকে পাশে ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে ফুসলিয়ে আদালত সংলগ্ন এয়ারপোর্ট এলাকার একটি ভুট্টে ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে সে পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে শিশু রিয়ামনির কান্নাকাটি ও চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসলে ধর্ষক সুজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

‎দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার দুপুরে লালমনিরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিতানন্দ সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১) ধারায় আসামি সুজনকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি/স্পেশাল পিপি) অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান সন্তুষ্টি প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, 'এটি একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনা ছিল। খোদ কোর্ট চত্বরের পাশ থেকে শিশুকে তুলে নিয়ে এমন পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে সঠিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো এবং বাদীপক্ষও এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।' আইনজীবীরা আশা করছেন, এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক রায়ের ফলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং শিশু নির্যাতন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে এটি একটি শক্ত বার্তা হিসেবে কাজ করবে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার পাওয়ার স্বস্তি ফিরে পেল ভুক্তভোগী পরিবার।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে