বরিশালের মুলাদীতে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে রহস্যজনক কারণে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ পরিবর্তন করায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পৌর এলাকার ভিআইপি লাইন বিচ্ছিন্ন করে মফস্বলের (সফিপুর) গ্রিডের সাথে সংযোগ দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তেরচর এলাকার প্রায় ৯০টি পরিবার। দিনে মাত্র ৪-৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ৩টি করাতকল (স-মিল) মালিক।
ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, গত দু’মাস ধরে এই চরম বিদ্যুৎ সংকট চলছে। যেখানে আগে মুলাদী পৌর সদরের ভিআইপি লাইনে যুক্ত থাকায় দৈনিক ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যেত, সেখানে বর্তমান সংযোগের কারণে দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ মিলছে না।
প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের এমন ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়োবৃদ্ধরা। গরমের কারণে এলাকার অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এছাড়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শুধু বাসাবাড়িতেই নয়, বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। সংযোগ পরিবর্তন করার পর থেকে এলাকার ৩টি সমিল (করাত কল) প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন করাতকলের মালিক বাবুল ব্যাপারী, আব্দুল মজিদ রাড়ী এবং মামুন হাওলাদার। করাতকল মালিক বালুল ব্যাপারী জানান, তাদের মিল বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের বেতন ও মিলের লোকসান সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। একই সাথে ঝিমিয়ে পড়েছে স্থানীয় দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। অবিলম্বে পূর্বের ভিআইপি লাইনে সংযোগ পুনঃস্থাপন করে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এলাকার বাসিন্দা নুপুর রানী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তৎকালীন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সময় থেকেই তারা পৌর সদরের ভিআইপি লাইনের সাথেই যুক্ত ছিলেন তারা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এবং একটি অসাধু চক্রের যোগসাজশে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন তাদের আগের খুঁটির সংযোগ কেটে দিয়ে সফিপুর এলাকার মফস্বল লাইনের সাথে যুক্ত করে দেয়। এর পর থেকেই মফস্বলের মতো দিনে ৪-৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন তারা। দীর্ঘ দুই মাস ধরে একাধিকবার পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে ধর্না দিলেও সংযোগ পরিবর্তন করে পুনরায় ভিআইপি লাইনে যুক্ত করার কাজ হয়নি। এ বিষয়ে মুলাদী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. তাইজুল ইসলাম জানান, ঠিকাদার কাজ করার সময় ভুলবশত সংযোগটি পরিবর্তন করে ফেলেছেন। কাছাকাছি ভিআইপি লাইনের খুঁটি স্থাপন করে আগের সংযোগে আনা সম্ভব হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর স্থায়ী সমাধান করা হবে। বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মুলাদী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।