প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি : সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার সিফাত

এফএনএস (প্রতিবেদক): | প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি : সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার সিফাত

বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার দাবি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারের সংশ্লিষ্টদের গালিগালাজ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছাড়ার অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক কলেজশিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে  আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলার পর তাকে আদালতে পাঠানো হয় বলে  জানান গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেন, গোপন সংবাদে সিফাত আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ব্যবস্থা নিয়ে শুক্রবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যোগসূত্র রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুরের বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। তবে সিফাত আব্দুল্লাহ এনসিপির সমর্থক বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিফাত আব্দুল্লাহ নামে ওই যুবক বেশ কিছুদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারের সংশ্লিষ্টদেরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও লেখালেখি করতেন। 

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার এক মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে সরকারে সংশ্লিষ্টদের গালিগালাজ করতে দেখা যায় তাকে। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার বাসায় চলতি মাসে ৪ হাজার এবং তার আগের মাসে ৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে- যা অতিরিক্ত বলে তিনি দাবি করেন। পরে বিষয়টি ভাইরাল হলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা গাছা থানা পুলিশকে জানায়। পরে রাতেই পুলিশ ওই যুবককে গ্রেফতার করে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, ‌প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির দায়ে সিফাত আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

সিফাত আব্দুল্লাহ গ্রেফতারের খবরে থানায় ভিড় করেন এনসিপি কর্মী-সমর্থকরা। এসময় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়।

এ ব্যাপারে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক আলী নাসের খান  বলেন, সিফাত এনসিপির সমর্থক এবং ইনকিলাব মঞ্চের এক্টিভিস্ট। একটা বাচ্চা ছেলে, অহেতুক তাকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তাকে আটকের পর থেকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে ওসি এবং পুলিশ কর্মকর্তারা চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে কটূক্তিকারী হিসেবে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দিয়ে জেলে পাঠাইতে। বিদ্যুৎ বিল বেশি এলে সমালোচনা করা যাবে না- এটা কেমন কথা। এটা অতি উৎসাহী লোকজন করছে। আমরা সিফাতকে শুরু থেকে চিনি। জুলাই আন্দোলনেও ছিল। সবসময় সরকারের বিভিন্ন অসঙ্গতি, অন্যায় সিদ্ধান্ত, তেল গ্যাস, বিদ্যুৎ ইত্যাদিসহ এমনকি সে বিভিন্ন সময় এনসিপির এবং অন্যান্য দলেরও সমালোচনা করছে। ন্যায়সঙ্গত সমালোচনা করে। অথচ পুলিশ রাতে তাকে বাসা থেকে লুঙ্গি পরা অবস্থায় তুলে নিয়ে এসে এখন বলছে, প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি ও সরকার সংশ্লিষ্টদের গালিগালাজ করেছে। এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন, বাক স্বাধীনতার লঙ্ঘন, সংবিধানের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন এবং পুলিশের বাড়াবাড়ি। এটা দলীয় পেটুয়া পুলিশের কাজ।

আলী নাসের খান বলেন, আটকের পর আমাদের নেতাকর্মীরা গাছা থানায় গিয়েছিল। মহানগর যুব শক্তির সিনিয়র মুখ্য সংগঠনক শাকিল সরদারের নেতৃত্বে প্রথমে নেতাকর্মীরা থানায় যায়। পরে মহানগর যুবশক্তির আহবায়ক তরিকুল ইসলাম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাজীপুর মহানগর সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল মনিরসহ নেতাকর্মীরা গাছা থানায় যাই। গিয়ে দেখি, থানা থেকে ওসি উধাও হয়ে গেছেন। আমাদের নেতাকর্মীরা রাত ২টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেন। আমরা ন্যায়বিচার চাই।