মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে নতুন টেলিস্কোপ মহাকাশে পাঠাতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’ নামের এই টেলিস্কোপের উৎক্ষেপণের সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯এ থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটের মাধ্যমে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে। বিজ্ঞানবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সায়েন্সডেইলি ডটকম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডায় নাসা, রোমান টেলিস্কোপ প্রকল্পের দল এবং স্পেসএক্সের কর্মকর্তারা ‘ফ্লাইট রেডিনেস রিভিউ’ নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যালোচনা করেন। এতে মহাকাশযান, রকেট, উৎক্ষেপণস্থলসহ পুরো মিশনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়। পর্যালোচনা শেষে মিশন কর্মকর্তারা জানান, টেলিস্কোপটি উৎক্ষেপণের আগে শেষ ধাপের প্রস্তুতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে এটি ফ্যালকন হেভি রকেটের বিশেষ সুরক্ষা আবরণের ভেতরে রাখা হয়েছে। ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপকে নাসার নতুন প্রজন্মের মহাকাশ পর্যবেক্ষণযন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি একই সময়ে আকাশের বিশাল একটি এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এর মাধ্যমে মহাবিশ্ব কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে, কেন এটি ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে এবং এর ইতিহাস কী, সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন বিজ্ঞানীরা। টেলিস্কোপটি সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট নিয়েও গবেষণা করবে। এর মাধ্যমে দূরবর্তী এসব গ্রহ সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। রোমান টেলিস্কোপের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একই সময়ে আকাশের বড় একটি অংশ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। ফলে মহাবিশ্বের গঠন, বিবর্তন ও পরিবর্তন সম্পর্কে আগের চেয়ে আরও বিস্তৃত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। নাসার আশা, এই মিশনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের ইতিহাস ও বিবর্তন সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে দূরবর্তী নক্ষত্র ও গ্রহ সম্পর্কে গবেষণাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।