রাজশাহীতে সারের দাবিতে কৃষকদের সড়ক অবরোধ

এম এম মামুন; রাজশাহী | প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
রাজশাহীতে সারের দাবিতে কৃষকদের  সড়ক অবরোধ
রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং খুচরা বাজারের সার সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন কৃষকেরা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজার এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক কৃষক একজোট হয়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, রোপা আমন মৌসুমে জমিতে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় চলছে। কিন্তু স্থানীয় ডিলারদের কাছে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। সকালে বানেশ্বর বাজারে সার ডিলারের দোকানের সামনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন কৃষকেরা। পরে তারা বানেশ্বর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনরত পুঠিয়ার বিড়ালদহ গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম (৪৫) বলেন, ‘আমন ধানের গাছে এখন সার দেওয়ার আসল সময়। তিন দিন ধরে বানেশ্বর বাজারে ঘুরছি। ডিলার বলছে সার নেই। কিন্তু বাজারের খুচরা দোকানে গোপনে বেশি টাকা দিলেই সার পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি দামে সার না পেলে আমাদের চাষাবাদ করে না খেয়ে থাকতে হবে।’ আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম (৫০) বলেন, ‘ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। সকাল ১০টার দিকে ডিলার ওছমান আলী বলেন সার শেষ। আমরা সার না পেলে জমি রক্ষা করব কীভাবে? সিন্ডিকেট করে আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।’ আন্দোলনরত কৃষকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অসাধু ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধের ফলে সড়কের উভয় পাশে শত শত বাস, ট্রাক ও যাত্রীবাহী যান আটকা পড়ে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে। এ সময় পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান চরচাকে অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং দ্রুত নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহের আশ্বাস দেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সার ডিলার ও রাজশাহী জেলা সার ও কীটনাশক কমিটির সভাপতি ওছমান আলী। তিনি বলেন, ‘কৃষকরা ভিত্তিহীন অভিযোগে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন। আমাদের এখানে এখন পর্যন্ত ইউরিয়ার কোনো সংকট নেই। আমার কাছে এখনো ১ হাজার ৪০ বস্তা অর্থাৎ ৫১ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুদ আছে। ডিএপি মজুদ আছে দেড় টন, এমওপি প্রায় এক টন এবং টিএসপি আছে ১ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন। তবে মাসের শেষ দিকে নন-ইউরিয়া সারের মজুদ কমে গেছে।’ পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাসে কৃষকেরা মহাসড়ক অবরোধ তুলে নেন। বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে