কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল বিএনপিতে তুহিন আর রুমার গ্রুপিংয়ের। সেটাই প্রকাশ্য রুপ নিলো বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে। মূলত বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই বিএনপিতে স্থানীয় প্রার্থীর দাবি নিয়ে বিভক্তি শুরু হয়। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা এক মেরুতে অবস্থান নেন। অপর মেরুতে অবস্থান নেন দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত এমপি প্রার্থী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান জাফির তুহিন,অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা ও পৌর বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান আরশেদ। দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বহিস্কার করা হয় কে এম আনোয়ারুল ইসলাম,হাসাদুল ইসলাম হীরা,পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তাইজুল,উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ফারুক হোসেন ও পৌর যুবদলের আহবায়ক তানভীর জুয়েল লিখনকে।
নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন স্বল্প ভোটের ববধানে পরাজিত হন জামায়াতের প্রার্থীর কাছে। এরপর সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি মনোনীত হন আরিফা সুলতানা রুমা আর বরেন্দ্রে বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হন হাসান জাফির তুহিন। চলতি বছরের ১৫ মে চাটমোহরের বালুচর খেলার মাঠে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তুহিন ও রুমা ঘোষনা করেন,দুই ভাই-বোন মিলে পাবনা-৩ এর উন্নয়নসহ সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করা হবে। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয় তুহিন আর রুমা নাকি দুই মেরুতে অবস্থান করছেন। এই দুই নেতার কর্মকান্ডে ক্রমেই সেটি স্পষ্ট হতে থাকে।
এদিকে প্রায় ৫ বছর যাবত চাটমোহর উপজেলা বিএনপির কোন কমিটি নেই। নেতৃত্বহীন ভাবে চলছে বিএনপির কার্যক্রম। কমিটি না থাকায় নেতা-কর্মীরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে এখন অবস্থান করছেন হাসান জাফির তুহিন অথবা আরিফা সুলতানা রুমার সাথে। দলীয় কোন্দল ক্রমেই দানা বাঁধতে থাকে। এই দুই গ্রুপের নেতৃবৃন্দের সাথে দু’একবার বাক বিতন্ডা ও উত্তেজনারও সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা গলনমাবেশ ও র্যালীর আয়োজন করেন। এদিন চাটমোহর বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে অ্যাডভোকেট রুমা ও পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার সরাসরি হাসান জাফির তুহিনের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন এবং তাকে বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিরোধের ঘোষনা দেন। একই দিন সন্ধ্যায় হাসান জাফির তহিনের নেতা-কর্মী কর্মূচি পালনের নামে চাটমোহর বাসস্ট্যান্ডে টাঙানো প্রধানমন্ত্রীর ছবিযুক্ত বিলবোর্ড ঢেকে দেওয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির দলীয় কোন্দল নিয়ে মন্তব্য,আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।