১৭ সেপ্টেম্বর কৃষক কার্ড পাবেন এক লাখ কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
১৭ সেপ্টেম্বর কৃষক কার্ড পাবেন এক লাখ কৃষক
ছবি: সংগ্রহীত

দেশের এক লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। একই দিনে দেশের ৫০ জেলায় উদ্বোধনী কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। উদ্বোধনের দিন এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাবে প্রণোদনার অর্থও পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে কৃষক কার্ডকে কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও কৃষিসেবা পাওয়ার সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিন প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়। ওই পর্যায়ে ১০ জেলার ১১টি ব্লকে প্রাথমিকভাবে কার্ড দেওয়া হয়েছিল।

কৃষক কার্ড শুধু ফসল উৎপাদনকারীদের জন্য নয়। কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে এর আওতায় আনা হচ্ছে। ফসল উৎপাদক, বর্গাচাষি, ইজারা চাষি, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরা এই কার্ডের সুবিধা পাবেন।

এই কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, কৃষিঋণ, সেচ, কৃষিযন্ত্র, সরকারি প্রণোদনা, কৃষিবিমা ও প্রশিক্ষণের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্যও কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মূল পর্বে কৃষক কার্ডে কিউআর কোড যুক্ত করা হচ্ছে। কার্ডধারী কৃষককে দ্রুত শনাক্ত করা এবং সরকারি সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতেই এই ব্যবস্থা। কার্ড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট কৃষকের তথ্য শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন। তাঁদের মধ্যে এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ফলে ১৭ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনের দিন প্রায় এক লাখ কৃষকের হাতে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন করা হয়েছে।

কৃষক কার্ডের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অধীনে কৃষক কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি সংক্ষেপে ‘পার্টনার’ প্রকল্প নামে পরিচিত। বিশ্বব্যাংক, ইফাদ ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।

পার্টনার প্রকল্পের তথ্য বলছে, নিবন্ধনের আওতায় আসা ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের প্রায় ৯৬ শতাংশ জমিতে ফসল চাষের সঙ্গে যুক্ত। মৎস্যচাষি রয়েছেন দেড় শতাংশ এবং গবাদিপশু পালন করেন প্রায় ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ ছাড়া লবণচাষি রয়েছেন ১৫৭ জন, যা মোট নিবন্ধিত কৃষকের শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।

জমির মালিকানার হিসাবেও নিবন্ধিত কৃষকদের বড় একটি অংশ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক শ্রেণির। ৫০ থেকে ২৪৯ শতক জমির মালিক ক্ষুদ্র কৃষক রয়েছেন ৪৩ শতাংশের বেশি। ৫ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক প্রান্তিক কৃষক প্রায় ৪০ শতাংশ। শূন্য থেকে ৫ শতক জমির মালিক কৃষক রয়েছেন প্রায় ৮ শতাংশ।

অন্যদিকে ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতক জমির মালিক মাঝারি কৃষক রয়েছেন ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। ৭৫০ শতকের বেশি জমির মালিক বড় কৃষকের সংখ্যা শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ।

কৃষক কার্ডের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পার্টনার প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী, দেশে কৃষকের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ। ধাপে ধাপে এসব কৃষকের মধ্য থেকে আরও বেশি মানুষকে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে