মানবপাচার রোধে দ্রুত কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে

এফএনএস | প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:১৭ এএম
মানবপাচার রোধে দ্রুত কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে

ইতালি নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও দালালরা ভুক্তভোগী যুবকদের লিবিয়ায় পাঠিয়ে তুলে দেয় মাফিয়াদের হাতে। তাদের খপ্পরে পড়ে শুধু অর্থ নয়, প্রাণও দিতে হচ্ছে অনেক যুবককে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের আমানত শাহ বিমানবন্দর হয়ে দুবাই, মিসর ও লিবিয়া রুট দিয়ে ইতালিতে পাঠানোর নামে মূলত মানব পাচার করছে বেশ কয়েকটি চক্র। জানা গেছে, চক্রের সদস্যরা প্রথমে ইতালিতে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখায়। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়াদের হাতে তুলে দেয়। এরপর তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে আবার লাখ লাখ টাকা আদায় করে। পরিবার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে কখনো কখনো জীবন দিতে হয় চক্রের হাতে। যারা টাকা দেয়, দালালরা তাদের ছাড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে নৌকা বা ট্রলারে ছেড়ে দেয়। এ সময় নৌকাডুবিতে অনেকের সলিলসমাধি হচ্ছে সাগরেই। ভাগ্যক্রমে কেউ কেউ ইতালিতে পৌঁছলেও বেশির ভাগ যাত্রী লিবিয়ার কোস্টগার্ডের হাতে ধরা পড়ে জেলখানায় বন্দি হচ্ছেন। তারপর জেল থেকে ছাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে দালালরা পরিবারের কাছ থেকে আরেক দফায় লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে মানব পাচার চক্রের দৌরাত্ম্য ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থার নিয়মিত অভিযান, উদ্ধার কার্যক্রম এবং পাচারকারীদের গ্রেফতার সত্ত্বেও থামছে না এই অবৈধ কার্যক্রম। বিজিবি, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে ভিকটিম উদ্ধার হলেও নতুন করে মানুষ পাচারের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এতে উপজেলার বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি সাগরে মানববোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় বাড়ছে নিখোঁজ ও স্বজনহারা মানুষের সংখ্যা। কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামপ্রতিক তৎপরতায় উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা যেমন আছে, তেমনি বারবার নতুন ভুক্তভোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। ২০২৬ সালে কয়েক মাসের ব্যবধানে ১৫০ জনের বেশি ভুক্তভোগীকে পাচারের হাত থেকে উদ্ধার করার ঘটনা প্রমাণ করে যে চক্রগুলো এখনো সক্রিয় এবং সময় ও সুযোগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে মানব পাচার চালিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান অবশ্যই পাচারকারীদের বিরুদ্ধে চাপ তৈরি করছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অনেক অভিযানে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করা গেলেও মূল হোতারা পালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে কক্সবাজারের মানবপাচার মোকাবিলায় সমুদ্রপথে নজরদারি ও তাৎক্ষণিক অভিযান আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিয়োগ পর্যায়েই পাচারকারীদের শনাক্ত করা, ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ, আর্থিক লেনদেন অনুসরণ, স্থানীয় সহযোগীদের চিহ্নিত করা এবং আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত জরুরি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে