চায়না দুয়ারি জালের ফাঁদে শেরপুরের জলজ জীববৈচিত্র্য

এফএনএস (সৌরভ অধিকারী শুভ; শেরপুর, বগুড়া) : | প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
চায়না দুয়ারি জালের ফাঁদে শেরপুরের জলজ জীববৈচিত্র্য

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে অবাধে মাছ শিকার চলছে। ক্ষুদ্র ফাঁসের এসব জালে মাছের পাশাপাশি পোনা, মা মাছ, সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুক ও বিভিন্ন জলজ পোকামাকড় আটকা পড়ে  এবং একসময় মারা যাচ্ছে। এতে দেশীয় মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ে চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বেড়ে যায়। এসব জালের ফাঁস এতটাই ছোট যে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও এতে আটকা পড়ে। আটকে পড়া প্রাণীর কিছু ছেড়ে দেওয়া হলেও অনেকগুলো জলাশয়ের পাড়ে বা শুকনা জায়গায় ফেলে রাখা হয়। পরে সেগুলোর মৃত্যু ঘটে। উপজেলার ফুলতলা গ্রামের বাসিন্দা মো. মজনু মিয়া বলেন, ‘চায়না দুয়ারি জালে ছোট মাছের পাশাপাশি মা মাছ ধরা পড়ে। সাপ, ব্যাঙ, শামুকসহ নানা ধরনের প্রাণী এতে আটকা পড়ে। এতে দেশের মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।’

দড়িমুকন্দ গ্রামের রাজু ইসলাম বলেন, ‘ এসব জালে মাছের সঙ্গে সাপ, শামুক, কাঁকড়া, ব্যাঙ ও বিভিন্ন পোকামাকড় আটকা পড়ে। অনেকে এগুলো ছেড়ে দেন, আবার কেউ মাটিতে পুঁতে রাখেন বা শুকনা জায়গায় ফেলে দেন। ফলে অনেক প্রাণী মারা যায়। এলাকায় নিয়মিত সরকারি অভিযান না থাকায় এই জালের ব্যবহার বেড়েছে।’

ক্ষুদ্র ফাঁসের চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের কারণে জলাশয়ের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় অনেক প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শেরপুর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এসব জাল জব্দ করে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তবে চায়না জালের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসাধারণকেও সচেতন হতে হবে।’

বগুড়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক শারমিন আক্তার বলেন, ‘চায়না জালের কারণে জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক বিস্তার ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও অন্যান্য প্রাণী একসময় হারিয়ে যেতে পারে। চায়না জালের বিরুদ্ধে মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযান চলমান রয়েছে।’

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে