ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানীর রোগ নয়। দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই এর বিস্তার ঘটছে। ডেঙ্গু এখন আর শুধু বর্ষাকালের পরিচিত জ্বর নয়; এটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর সংক্রমণের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। সাধারণ জ্বরের মতো শুরু হলেও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার সময় রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এ সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ডেঙ্গুকে ভয় পাওয়ার চেয়ে রোগটির প্রকৃতি, লক্ষণ, বিপদের সংকেত এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করাই বেশি জরুরি। বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ২০২৩ সাল। শেখ হাসিনার শাসনামলে ওই বছর ডেঙ্গুতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের। ২০২২ সালে মৃত্যু হয়েছিল ২৮১ জনের। এক বছরের ব্যবধানে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ছয় গুণ বেড়ে যায়। এ পরিসংখ্যান আমাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। দুঃখজনক বিষয় হলো, ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পরও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। প্রতি বছর বর্ষা এলে ডেঙ্গু নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মশা নিধনে নেওয়া হয় নানা কর্মসূচি। ওষুধ ছিটানো হয়। চালানো হয় ক্র্যাশ প্রোগ্রাম। সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। তারপরও ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকানো যাচ্ছে না। এভাবে প্রতি বছর শুধু নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করলে সমস্যার সমাধান হবে না। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মূল কাজ হাসপাতালের বাইরে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এ কাজে আরও সক্রিয় হতে হবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু ঢাকাকে গুরুত্ব দিলে চলবে না। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বাড়াতে হবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোয় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যেন দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে পারেন, নিশ্চিত করতে হবে সেই ব্যবস্থা। রোগী বাড়লে জেলা হাসপাতালগুলোয় অতিরিক্ত চিকিৎসা সুবিধা প্রস্তুত রাখতে হবে।