বাজিতপুরে ৭৭ স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও পাঠদান ব্যাহত

এফএনএস (মহিউদ্দিন লিটন; হাওর অঞ্চল, কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
বাজিতপুরে ৭৭ স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও পাঠদান ব্যাহত

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। বর্তমানে উপজেলার মোট ৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। নিয়মিত প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি পাঠদান চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং পাঠদানের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে পাঠদান কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে।

আজ সোমবার সরেজমিনে ও বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা গেছে, বাজিতপুর উপজেলায় ৭৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। পাঠদানের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজিতপুর উপজেলায় বর্তমানে ১১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টিতে প্রধান শিক্ষক থাকলেও বাকী ৭৭টিতে প্রধান শিক্ষক নেই, ৭৪টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য এবং ২৪টিতে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী নেই।

শিক্ষক সংকটের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া কর্মরত শিক্ষকেরা বাৎসরিক ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, পিটিআই প্রশিক্ষণ এবং রিসোর্স সেন্টারের বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করায় অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠছে। অনেক প্রধান শিক্ষককে দাপ্তরিক কাজে অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে একাধিক শিফটে ক্লাস পরিচালনা করা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি হিসাবে ৭৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য দেখানো হলেও বাস্তবে এ সংখ্যা আরও বেশি। কারণ ৭৭ জন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তাঁদের সহকারী শিক্ষকের পদগুলোও কার্যত শূন্য রয়েছে। এতে করে মোট সহকারী শিক্ষক শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১৫১টি। পাশাপাশি ২৪টি বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় সহকারী শিক্ষক পদটি শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ ও পাঠদান স্বাভাবিক ভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী না থাকায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন কাজে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

বাজিতপুর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম সায়েম খান বলেন, সরকারি হিসাবে আমাদের উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ ৭৪টি দেখানো হলেও বাস্তবে এ সংখ্যা প্রায় ১৫১টি। কারণ বহু সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া শিক্ষক অসুস্থতা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও নিয়মিত ছুটির কারণে অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সায়েম খান আরও বলেন, সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকর্মীদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত নামমাত্র পরিচালিত হচ্ছে। তাই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বার্থে সহকারী শিক্ষকের পাশাপাশি শিগগির প্রধান শিক্ষক নিয়োগ জরুরী হযে পড়েছে।

শিক্ষক প্রতিনিধি ফজলে এলাহী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলছে প্রাথমিক স্কুলগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম। আমরা সহকারী শিক্ষকরা খুবই বিব্রতকর অবস্থায় পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও আশু সমাধান পাচ্ছি না।

এ বিষয়ে বাজিতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি আমরা লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ৭৭ জন্য সহকারী শিক্ষক দেওয়ার জন্য আবেদন করেছি। আশা করছি চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শূন্য পদগুলো পূরণ হবে। তখন এ সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।

সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, বাজিতপুরে যোগদানের পর থেকে ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন হয়েছে। শিক্ষক সংকট কাটিয়ে পাঠদানের গতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করছি।


আপনার জেলার সংবাদ পড়তে