নওগাঁর মান্দায় নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য অর্থের বিনিময়ে সংগ্রহ করে অন্যদের কাছে বিক্রির অভিযোগে আব্দুস সালাম সরকার (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৫। গতকাল রোববার ভোরে উপজেলার প্রসাদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, এ সময় আব্দুস সালামের পরিচালিত ‘সরকার কম্পিউটার ও অনলাইন পয়েন্ট’ নামের দোকান থেকে দুটি ল্যাপটপ, দুটি সিপিইউ, একটি মনিটর, দুটি মুঠোফোন, ১৫টি সিমকার্ড, আটটি স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ৫২টি ল্যামিনেট করা এনআইডি কার্ডসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় র্যাবের পক্ষ থেকে মান্দা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
র্যাব-৫ এর এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মান্দা উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের বিপরীতে অবস্থিত ওই দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মান্দা উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জব্বার সরকারের ছেলে । র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করতেন। পরে এসব তথ্য বেশি দামে অন্যদের কাছে সরবরাহ করতেন। তথ্যের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র, মুঠোফোনের সিমের মালিকানা, লাস্ট কল লোকেশন, আইএমইআই, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) এবং মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
অভিযানে জব্দ করা অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি ডেল মনিটর, একটি এলইডি টেলিভিশন, দুটি কিবোর্ড, একটি মাউস, একটি কালার প্রিন্টার, একটি রাউটার, বিভিন্ন ধরনের ক্যাবল, বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড, বিএমইটি ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স কার্ড এবং নির্বাচন কমিশনের দুটি প্রত্যয়নপত্র।
র্যাবের এজাহারে বলা হয়েছে, আব্দুস সালাম ও তাঁর সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে নাগরিকদের গোপনীয় তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দিতেন। এ ঘটনায় র্যাব-৫ রাজশাহীর উপপরিদর্শক (এসআই) উজ্জল হোসেন বাদী হয়ে আব্দুস সালাম সরকারসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মান্দা থানায় মামলা করেন। মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, এ ঘটনায় মামলার পর গ্রেপ্তার আব্দুস সালাম সরকারকে আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।