পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা একযোগে আত্মগোপনে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নজিরবিহীন প্রশাসনিক শূন্যতা ও চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।
প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের ভিতরে দ্বন্দ্বের কারণে মঙ্গলবার সকালে চিড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কক্ষে তালা দেয়ার ঘটনা ঘটে।
পাঁচটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দলীয় কমিটির পদধারী থাকায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস ধরে তারা আত্মগোপনে থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজ, আর নাগরিক সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ৫ চেয়ারম্যান হলেন ১ নং রঘুনাথপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান আবু সাঈদ, ২ নং আমরাজুড়ি ইউনিয়নের উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর মুন্সী, ৩ নং কাউখালী সদর ইউনিয়নের উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, ৪ নং চিড়াপাড়া পার সাতুরিয়া ইউনিয়নের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লাইফুজ্জামান মিন্টু এবং ৫ নং শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য গাজী সিদ্দিকুর রহমান।
চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতির বিষয়
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও ট্রেড লাইসেন্সসহ নিত্যদিনের জরুরি সেবা নিতে এসে তারা ইউপি ভবনে কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না। চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতিতে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও সরকারি সুবিধাভোগীদের ভাতা বিতরণ কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে
প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে ক্ষমতার টানাটানি ও অসন্তোষ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আইন ও বিধিবিধান উপেক্ষা করে বেআইনিভাবে প্যানেল চেয়ারম্যান বসানো এবং কার্যক্রম চালানো নিয়ে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ৪ নং চিড়াপাড়া পার সাতুরিয়া ইউনিয়নের সকল ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও প্যানেল চেয়ারম্যানদের দ্বন্দ্ব স্থাপিত হয়ে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। ইউপি সদস্যদের দ্বন্দ্বে পরিষদে তালা দেয়া ও তালা ভাঙ্গার ঘটনা ঘটছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইতিপূর্বে উক্ত পাঁচটি ইউনিয়নে পরিষদে প্রশাসক চেয়ে উর্ধ্বতন ও কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। তার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে আমরাজুড়ী ইউনিয়নে উপজেলা আইটি কর্মকর্তা মেহেদী হাসানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
কাউখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহ আলম এবং সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল হোসেন এই প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিরসনে অবিলম্বে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
কাউখালী সদর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশুতোষ বরাল জানান, নতুন সরকার গঠনের পর থেকে চেয়ারম্যান নিয়মিত কার্যালয়ে না আসায় দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ পরিচালনায় তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
পিরোজপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মাহমুদুর রহমান মামুন জানান, মেয়াদ উত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে । তবে কাউখালী উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মেয়াদ ইতোমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং সেখানে নতুন প্রশাসক নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে।