বাদাম বিক্রেতা সংগ্রামী সুলতানের দিন কাটে পথে পথে

এফএনএস (এমএমআই লিটন; ডিমলা, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
বাদাম বিক্রেতা সংগ্রামী সুলতানের দিন কাটে পথে পথে

জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে। কারও হাতে থাকে কলম, কারও হাতে থাকে কৃষকের লাঙল, আবার কেউ জীবিকার তাগিদে রাস্তায় রাস্তায় ঘুড়ে বিক্রি করেন বাদাম। তেমনই একজন সুলতান। অভাব-অনটনের সংসারে পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন বাদামের ঝুড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন তিনি। 

 সকাল হলেই জীবিকার সন্ধানে ছুটে চলেন সুলতান। রোদ, বৃষ্টি কিংবা ক্লন্তি কোনো কিছুই যেন তাকে থামাতে পারে না। সারাদিন ঘুরে ঘুরে বাদাম বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে তার সংসারের খরচ। কখনো বিক্রি ভালো হয়, আবার কখনো দিন শেষে সামান্য আয় নিয়েই ফিরতে হয় বাড়ীতে। 

সুলতানের জীবনের গল্প শুধু একজন বাদাম বিক্রেতার গল্প নয়; এটি একজন সংগ্রামী মানুষের গল্প। অভাব তার পথের কাঁটা হলেও পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করার সাহস জোগায়। নিজের কষ্টকে আড়াল করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টাই যেন তার একমাত্র স্বপ্ন।

কথা বলতে বলতে সুলতানের চোখে ফুটে ওঠে ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা চিন্তা। তার চাওয়া খুব বেশি নয় পরিবার নিযয়ে একটু স্বচ্ছন্দে বেঁচে থাকা, সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করা এবং এমন একটি দিন দেখা, যেদিন অভাবের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করতে হবে না।

সমাজের ব্যস্ততার ভিড়ে প্রতিদিন হয়তো অসংখ্য মানুষ সুলতানের কাছ থেকে এক মুঠো বাদাম কিনে চলে যান। কিন্তু সেই বাদামের আড়ালে লুকিয়ে থাকে একজন মানুষের ঘাম, কষ্ট, দায়িত্ব আর বেঁচে থাকার আকাঙ্কা

সুলতানের মতো হাজারো মানুষ নীরবে জীবনসংগ্রাম করে চলেছেন। তাদের পরিশ্রম হয়তো বড় কোনো শিরোনাম হয় না, কিন্তু তাদের ঘামেই টিকে থাকে একটি পরিবার, বেঁচে থাকে একটি স্বপ্ন।

সুলতান নীলফামারী ডিমলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিতপাড়া (খানাবাড়ী) গ্রামের মৃত: মহির উদ্দিনের পুত্র। তার কোন জমি জায়গা না থাকায় মানুষের জমিতে রয়েছে। 

সুলতান জানান, জিনিসপত্রের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে প্রতিদিন বাদাম বিক্রি করে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। "কাঁচা বাদাম, কয়লা আর ঠোঙার কাগজ কিনতেই বিক্রির বড় অংশ চলে যায়। দিনশেষে ২০০-২৫০ টাকা লাভ থাকে। এই টাকায় চাল-ডাল কিনব, না ছেলেমেয়ের পরাশোনার খরচ দেব, বুঝতে পারি না," কণ্ঠে হতাশার সুর নিয়ে বলেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুলতানের মতো বহু মানুষ প্রতিদিন এভাবেই জীবনযুদ্ধের মুখোমুখি হচ্ছেন। সামান্য সরকারি সহায়তা কিংবা স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা হলে সুলতানের মতো পরিশ্রমী মানুষগুলো হয়তো একটু স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে পেতেন।

প্রতি রাতে পোড়া কয়লার ছাই আর বাদামের খোসা পরিষ্কার করে যখন ঘরে ফেরেন সুলতান, তখন তার শরীরে নেমে আসে ক্লান্তি। তবুও আগামীকালের নতুন সকাল আর সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় আবারও ডালা সাজানোর স্বপ্ন নিয়ে ক্লান্তির ঘুমে এই সংগ্রামী বাবা। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে