পাঁচবিবি উপজেলার কাঁকড়া পিংলু উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের মেয়ে সহ একই সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণির ২৫ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ্য ছাত্রীদের উপজেলা মহীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল উদ্বিগ্ন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ করে এক যোগে বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রীরা মাথা ব্যাথা ও অসুস্থ্যতার কথা জানাতে থাকে। এ সময় কয়েকজন ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাদের বিকেলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশিদ জানান, মঙ্গলবার স্কুল চলাকালে একজন ছাত্রী সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। তাকে শিক্ষক কক্ষে নিয়ে মাথায় পানি দেওয়ার পর বাড়িতে পাঠানো হয়। এর কিছুক্ষণ পর আরও কয়েকজন ছাত্রী মাথা ব্যাথা সহ অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, পরদিন বুধবার আবারও স্কুল চলাকালে হঠাৎ বিভিন্ন শ্রেণির আরো ১৮ জন ছাত্রী একইভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাদেরও হাসপাতালে নেওয়া হয়। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল রওজা জান্না বলেন, স্কুলে আসার পর আমার মাথা ব্যাথা শুরু হয়। প্রথম ক্লাস করার পর মাথা ব্যাথা বেড়ে গেলে বেঞ্চে মাথা রেখে শুয়ে পড়ি। এক পর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। এরপর কী হয়েছে তা বলতে পারব না।
ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, স্কুলে মাথা ব্যাথা হয়েছিল। কি কারণে হয়েছে, তা বলতে পারছি না। এদিকে একসঙ্গে এত ছাত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তবে কী কারণে ছাত্রীরা একই সময়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার পাল বলেন, বিকেলে এক সঙ্গে প্রায় ২৫ জন ছাত্রী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের পরীক্ষা করে তেমন কোনো শারীরিক সমস্যা পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে অনেকেই সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। দু-একজনের সমস্যা একটু বেশি থাকায় তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আশা করি, তেমন কিছু হবে না। আজ স্বাস্থ্য বিভাগের ২জন সদস্য ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজারসহ ৩জনের একটি টিম বিষয়টি তদন্ত করছেন । এখন পর্যন্ত তারা এটিকে মনস্তাত্ত্বিক ঘটনা বেেলই মনে করছেন।