নওগাঁর মান্দায় ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহার না করায় এক তরুণীকে (২৬) প্রাণনাশের হুমকি, মারধর এবং পুনরায় ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জামিনে মুক্ত আসামির বিরুদ্ধে। এমনকি চিঠি ও দেশীয় অস্ত্র পাঠিয়ে মামলার সাক্ষীদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। আসামির অব্যাহত হুমকির মুখে বাদী ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুসুম্বা গ্রামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে রহিদুল ইসলাম (৪৬) বেশ কিছু দিন ধরে ওই তরুণীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত বছরের ১ এপ্রিল নিজ বাড়িতে একা পেয়ে রহিদুল তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং গোপনে অশ্লীল ছবি তুলে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে র্যাব-৫ এর একটি টিম রহিদুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, সমপ্রতি আসামি রহিদুল উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়েই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। রাজি না হওয়ায় তাঁকে হাতে লেখা চিঠি পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাদীপক্ষের স্থানীয় সাক্ষীদের নাম উল্লেখ করে দেশীয় অস্ত্র পাঠিয়ে হুমকি বার্তা পাঠানো হয়। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে নওগাঁ আদালতে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বাদী জানান, গত ২৩ আগস্ট তাঁর বৃদ্ধা মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে রহিদুল জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে তাঁকে মারধর করেন এবং আবারও ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা এসে রহিদুলকে ধরে ফেললেও কৌশলে তিনি পালিয়ে যান। খবর পেয়ে মান্দা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম ও সাইদুর রহমান বলেন, ‘জামিনে বের হয়ে রহিদুল আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বাদী ও সাক্ষীদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছি আমরা।’ অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত রহিদুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। জানতে চাইলে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে জানা নেই। ভুক্তভোগী বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’