ভারতে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর মরদেহ খাওয়ানো হলো কুকুরকে

এফএনএস (অনলাইন ডেস্ক): | প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
ভারতে  কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর মরদেহ খাওয়ানো হলো কুকুরকে

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর তার মরদেহ সোনাঝরা এলাকার বাইরে একটি খোলা মাঠে ফেলে রাখা হয়।

দিল্লি পুলিশের বরাতে এনডিটিভির খবরে বলা হয়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর নর্থওয়েস্ট দিল্লির স্বরূপ নগর এলাকার কুশল রোডের কাছে একটি খেতের কাছ থেকে কিশোরীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ দিন পড়ে থাকায় মরদেহটি এতটাই পচে গিয়েছিল যে প্রথম দেখায় তার লিঙ্গ পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি মরদেহের কিছু অংশ কুকুরে খেয়ে ফেলেছিল এবং একটি হাত শরীর থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং বাকি তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বা কিশোর। প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তের নাম শিবম, যিনি শিবম ওরফে সুধামা ওরফে চুচু নামে পরিচিত এবং খাদা কলোনির বাসিন্দা। আর বাকি তিনজন অভিযুক্তের বয়স ১৬ ও ১৭ বছরের মধ্যে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি, অভিযুক্তদের পরিহিত জামাকাপড় এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি টেম্পোও এরইমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামীদের জবানবন্দির বরাতে পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরী এবং অভিযুক্তরা একে অপরকে আগে থেকেই চিনত। ঘটনার দিন একটি টেম্পোতে করে ওই কিশোরদের সঙ্গেই সে ভ্রমণ করছিল। চলন্ত ওই টেম্পোর ভেতরেই সবাই মিলে একসঙ্গে মদ পান করে। এরপর সেখানে তাকে ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মাঠে ফেলে দেওয়া হয়।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, মেয়েটি গত কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পরও তার স্বজনরা থানায় যোগাযোগ করেনি। তার পরিবার জানায়, সে প্রায়ই কয়েকদিনের জন্য নিখোঁজ থাকত। সে কারণেই তার পরিবার কোনো নিখোঁজ ডায়েরি বা থানায় কোনো অভিযোগ করেনি।

পুলিশ জানায়, অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং পকসো আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় এবং অপরাধীদের প্রাথমিক পরিচয় অজানা থাকায় পুলিশ তদন্তের গতি বাড়াতে এলাকার এবং আশপাশের রাস্তার প্রায় ৫০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। ফুটেজ পর্যালোচনার একপর্যায়ে রাতের অন্ধকারে সন্দেহজনকভাবে একটি টেম্পোকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি চলাচল করতে দেখা যায়।

অন্ধকার থাকার কারণে টেম্পোটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। তবে হাল ছাড়েনি পুলিশ। গোয়েন্দারা বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি লোকেশন ধরে টেম্পোটির গতিবিধি ট্র্যাক করতে শুরু করেন। অবশেষে ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর মাঝরাতে একটানা সারারাত ধরে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে সেই সন্দেহভাজন টেম্পোটি শনাক্ত করা হয়। এরপর চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে পুরো ঘটনার জট খুলতে শুরু করে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে