ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় স্থাপন হতে যাচ্ছে উপজেলা ক্রীড়া অফিস। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্রীড়া পরিদপ্তরের রাজস্বখাতের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২৭-২০২৮ অর্থবছরে ত্রিশালে উপজেলা ক্রীড়া অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ত্রিশালের ক্রীড়াঙ্গন ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়াবিদ, সংগঠক ও যুবসমাজের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, “ত্রিশালে উপজেলা ক্রীড়া অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে আমাদের ক্রীড়াঙ্গন ও যুবসমাজের জন্য একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে ত্রিশালের ক্রীড়াপ্রেমীরা যে প্রত্যাশা করে আসছিলেন, এই সিদ্ধান্ত তার বাস্তবায়নের পথকে আরও সুগম করবে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখা সম্ভব।”
তিনি বলেন, “উপজেলা পর্যায়ে একটি স্থায়ী ক্রীড়া প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, নতুন প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন আরও গতিশীল হবে। ত্রিশাল থেকে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” ডা. লিটন আরও বলেন, “২০২৭-২০২৮ অর্থবছরে সিদ্ধান্তটির পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ত্রিশালের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। ত্রিশালের মেধাবী ও প্রতিভাবান তরুণদের জন্য আমরা একটি সুন্দর ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।”
এদিকে, ত্রিশালবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা ক্রীড়া অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা ক্রীড়া অফিস প্রতিষ্ঠার পর তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম, প্রতিভা অন্বেষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও ক্লাবের কার্যক্রমে আরও সমন্বয় তৈরি হবে। ত্রিশালের ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপজেলায় ক্রীড়া অফিস স্থাপিত হলে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সহায়তা আরও সহজলভ্য হবে। ২০২৭-২০২৮ অর্থবছরে সিদ্ধান্তটির বাস্তবায়ন হলে ত্রিশালের ক্রীড়াক্ষেত্রে এটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে প্রত্যাশা করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।