১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজ বাসায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু করবেন

এফএনএস (প্রতিবেদক): | প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজ বাসায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু করবেন

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারের নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশানের নিজ বাসায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু করবেন। একই সঙ্গে আগামী ৬ মাসের মধ্যে সকল ইউনিয়ন পরিষদে সৌর প্যানেল বসাতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আজ শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য  জানিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কেবল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনই নয়, পর্যায়ক্রমে জাতীয় সংসদ, বাংলাদেশ সচিবালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জনগণকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হলে আগে নিজেদেরই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। আমরা নিজেরা বাস্তবায়ন করলেই সাধারণ মানুষ উৎসাহিত হবে।’

গ্রাসরুট পর্যায়ে এর আলো পৌঁছে দিতে দেশের ৩ হাজার ৪১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যেখানে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ৫.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এসব সৌর প্যানেল থেকে এক ঘণ্টার পাওয়ার ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় প্রকৌশলীদের এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিধি আরও বাড়ানো হবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্যমতে, বেসরকারি খাতের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১২টি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে আরও ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ। এর মধ্যে ফটিকছড়িতে ২০০ মেগাওয়াট এবং ঈশ্বরদী, কক্সবাজার ও মোংলায় বড় মাপের সোলার পার্ক স্থাপন অন্তর্ভুক্ত।

জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০-এর আওতায় আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সোলার পাওয়ার থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৮৫২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।