বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লার পারিবারিক জমি দখল করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বানারীপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার কথা জানালেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী মঞ্জু মোল্লা।
তার অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত আলী হোসেন ও তার ছেলে আতিকুর রহমান রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমিতে নির্মাণকাজ চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
তবে অভিযুক্ত আতিকুর রহমানের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির মালিক তার বাবা। দীর্ঘদিন মঞ্জু মোল্লা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তাদের জমি দখল করে রেখেছিলেন। এখন তারা নিজেদের জমি দখলে নিয়েছেন।
গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা জানান, তাদের বাড়িসংলগ্ন জেএল ৪২ নম্বর খতিয়ানের এসএ ৫৯৪ ও ৫৯১ নম্বর খতিয়ানের হাল ৫৯৭ ও ৫৮৯ নম্বর দাগ থেকে ২০১৭ সালের শেষের দিকে তারা প্রায় তিন শতক জমি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছেন।
মঞ্জু মোল্লা অভিযোগ করেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে আলী হোসেন ও তার ছেলে লোকজন নিয়ে ওই জমিতে এসে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ও আশপাশের লোকজন বাধা দিলে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরবর্তীতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে আতিকুর রহমান দেশীয় অস্ত্রধারী কয়েকজনকে সাথে নিয়ে ওই জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। পরে তিনি (মঞ্জু মোল্লা) আদালতের শরণাপন্ন হন।
আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থিতাবস্থা জারির নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর গত শুক্রবার সকালে বানারীপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অজয় সিকদার ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে নোটিশ দেন। কিন্তু এরপরেও আতিকুর রহমান ও তার বাবা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মঞ্জু মোল্লা জানান, আদালতের আদেশ জারির পরেও নির্মান কাজ বন্ধ হয়নি জানিয়ে থানার পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা শতদল মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু পরিদর্শক ওপর মহলের চাঁপ রয়েছে বলে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বলেন, ওই জমির মালিক আমার বাবা। এতো বছর মঞ্জু মোল্লা নিজের ক্ষমতা বলে আমাদের জমি দখল করে রেখেছিলেন। এখন আমরা আমাদের জমি দখলে নিয়েছি। আদালতের আদেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান সরকারি কাজে বানারীপাড়ার বাইরে থাকায় তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, বর্তমানে থানার ওসির দায়িত্বে রয়েছেন পরিদর্শক শতদল মজুমদার।
শতদল মজুমদার বলেন, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আতিকুর রহমান ও তার বাবাকে স্থিতাবস্থার বিষয়টি জানিয়ে এসেছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতেও তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরেও নির্মাণকাজ চলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওপর মহলের চাঁপ রয়েছে। বিধায় আমরা অন্য কিছু করতে পারছি না।