দৌলতপুরে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত-শতাধিক, দীর্ঘদিন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাই

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম শাহিন; দৌলতপুর, কুষ্টিয়া) : | প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
দৌলতপুরে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত-শতাধিক, দীর্ঘদিন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাই

কুষ্টিয়ার  দৌলতপুরে ছড়াচ্ছে গবাদিপশু গরুর থেকে  অ্যানথ্রাক্স রোগ। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এ রোগের উপসর্গ নিয়ে রোগীরা দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন। গত আগস্ট মাস থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এ উপজেলায় প্রায় শতাধিক রোগী অ্যানথ্রাক্সে রোগে আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২৪ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত আগস্ট মাসে ৩০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত ৫জন রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তারাও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তদের মধ্যে উপজেলার তারাগুনিয়া এলাকার সাধন, ফিলিপনগর এলাকার রোহান, হোসেনাবাদ এলাকার আফরিন, সাদিপুর এলাকার মিনহাজ, আমদহ এলাকার সুমন, গোয়ালগ্রাম এলাকার রবিউল, রিফায়েতপুর এলাকার আসমান, ইব্রাহিম ও পচামাদিয়া এলাকার সোহেল রানাসহ বিভিন্ন এলাকার রোগী রয়েছেন। উপজেলার মথুরাপুর এলাকার তাসেন আলী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তিনি জানান, হঠাৎ তার হাতে একটি ঘা তৈরি হয়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নিলেও ঘা ভালো হচ্ছিল না। পরে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। এরপর এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন তিনি। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত এলাকার সেলিম নামে একজন কশাই জানান, গরুর মাংস কাটার সময় তার হাতে কেটে যায়। পরে সেখানে ঘা সৃষ্টি হয়। দৌলতপুর  হাসপাতালে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পর বর্তমানে অনেকটাই সুস্থবোধ করছেন তিনি। অ্যানথ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত আক্রান্ত গবাদিপশুর মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। আক্রান্ত গরু, ছাগল, মহিষ বা ভেড়ার মাংস কাটা, চামড়া বা দেহাবশেষ নাড়াচাড়া করার সময় জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে হাতে বা শরীরে কাটা বা ক্ষত থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে অসুস্থ বা হঠাৎ মারা যাওয়া গবাদিপশু জবাই না করা, এসব পশুর মাংস কেনাবেচা ও খাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং আক্রান্ত পশুর দেহাবশেষ খালি হাতে নাড়াচাড়া না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পশু অসুস্থ হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের জানানো এবং শরীরে সন্দেহজনক ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ওপঃপঃকর্মকতা কর্মকর্তা ডাঃ তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান অ্যানথ্রাক্স গবাদিপশু থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। আক্রান্ত গরু-ছাগল জবাই করা কিংবা এসব পশুর মাংস ও দেহাবশেষ নাড়াচাড়া করার মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হয়। তাই জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং অসুস্থ বা অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গবাদিপশু জবাই ও কেনা বেচা থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি আরো জানান, গত আগস্ট মাস থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দৌলতপুরে মোট ৫৪ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ২৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর ৫ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পর তারাও সুস্থ হয়েছেন। তবে এতে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ দিকে প্রাণিসম্পদ দপ্তরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা না থাকায় বৃহৎ এ দৌলতপুরের মানুষ নানা রকম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। অবিলম্বে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিয়োগ সহ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে দক্ষ লোক নিয়োগের দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সচেতন এলাকাবাসী।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে