বাঘার পদ্মার ভাঙনে ২ সপ্তাহে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ১৭টি বিদ্যুতের পোল

এফএনএস (আমানুল হক আমান; বাঘা, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
বাঘার পদ্মার ভাঙনে ২ সপ্তাহে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ১৭টি বিদ্যুতের পোল

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে পদ্মার পানি কমলেও দেখা দিয়েছে  ভাঙন। ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বসতভিটা, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন গাছপালা। ঝুঁকি এড়াতে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বিদ্যুতের ১৭টি পোল। পদ্মার পানি কমার সাথে সাথে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের করারী নওশারা চর। এরমধ্যে কামরুল মোল্লার বসত ভিটা ও ভাঙন রোধে দেওয়া জিও ব্যাগ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ বিষয়ে চৌমাদিয়া চরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজ গাজি বলেন, আমার বসত ভিটা নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ায়, বাড়ি সরিয়ে নিয়ে বাংলা বাজার এলাকায় ঘর তুলে বসবাস করছি। চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরের মধ্যে ১৩টি চরই বন্যার পানিন নিচে দুই সপ্তাহ তলিয়ে ছিল। কেউ ঘরের মাচা তৈরী করে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কেউ গবাদি পশু নিয়ে উচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। দুই সপ্তাহ পর পানি নামতে শুরু করলেও এখন ভাঙনই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, দিয়ারকাদিরপুর, লক্ষীনগর, কালিদাসখালী চরের চিহৃ হারিয়ে বলে কিছু থাকবে না। বন্যার প্রভাব পড়ে শিক্ষা জীবনেও। ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮টিতেই পাঠদান দুই সপ্তাহ বন্ধ ছিল। প্রতিটি চর পানি উঠায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে না পারায়  শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডেও সাবেক মেম্বার ও কালিদাসখালী চরের শহিদুল ইসলাম বলেন, এমপি, ইউএনও, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রদল, আনসার ভিডিপির পক্ষ থেকে কিছু ত্রান সহায়তা দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, বন্যায় আক্রান্ত এক হাজারের বেশি পরিবারকে সরকারি ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। তবে ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোডের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিবেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হবে। চকরাজাপুর ইউনিয়নে ১৫টি চরে লোকসংখ্যা ২০ হাজার। কয়েক বছরের ভাঙনে লোক সংখ্যা অন্যত্রে চলে যাওয়া কিছু কমে গেছে। এর সাথে আবাদি জমির পরিমাণ ও কমে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে আকস্মিক ভাঙন দেখা দেদিয়েছে।

পদ্মার ভাঙনে মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে চকরাজাপুর ও লক্ষীনগর চর। ২০২১ সালের ভাঙনে ইউনিয়নের ৩, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর ওয়াডের বেশিরভাগ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।  সরিয়ে নেওয়া হয়েছে চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কমিউনিটি ক্লিনিক, ১১৫টি বিদ্যুতের খুঁটি। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বাঘা জোনাল অফিসের অধীনে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ভাঙনের কারনে ১৭টি পোল সরিয়ে নেয়া হয়েছে।= এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়নের প্রশাসক তরিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙনের কবলে পড়ে অনেক মানুষ অন্যত্র গিয়ে বসবাস করছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে