চুয়েটের নতুন ভিসিকে প্রত্যাখ্যান করে ‘লাল কার্ড’ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের

এফএনএস (প্রতিবেদক): | প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
চুয়েটের নতুন ভিসিকে প্রত্যাখ্যান করে ‘লাল কার্ড’ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের

নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের অনলাইনে যোগদানের প্রতিবাদে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে বিক্ষোভ করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। একই সঙ্গে সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদী গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন করেন আন্দোলনকারীরা। বেলা ১১টার দিকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও স্লোগান তুলে ধরা হয়। গ্রাফিতিতে ‘ফরমান জারি করে খোলা যায় দ্বার?’, ‘উই আর দ্য ওয়ান’সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী বার্তা স্থান পায়।

পরে দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীরা হাতে লাল কার্ড নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় জড়ো হন। সেখানে তারা ‘রেড কার্ড টু অনলাইন ভিসি’, ‘অনলাইন ভিসিকে মানি না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, অনলাইনে যোগদান করা নতুন উপাচার্যকে তারা গ্রহণ করছেন না।

পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান বলেন, নতুন উপাচার্য তাদের আন্দোলনকে ৩০ থেকে ৩৫ জনের আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু বিভিন্ন হল থেকে শত শত শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। উপাচার্যের ওই বক্তব্য এবং অনলাইনে যোগদানের বিষয়টি শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করছেন বলেও জানান তিনি।

চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীরা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম দায়িত্ব নিলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।

এদিকে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তারাও কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন। শিক্ষক সমিতি সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। কর্মকর্তাদের সংগঠনও একই ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ফলে চুয়েটের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে টানা পঞ্চম দিনের মতো চুয়েটে শাটডাউন কর্মসূচি চলছে। শনিবারও নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে তারা তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে