দেশের ১১টি ব্যাংকের অর্থ লুট ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ করেছেন লক্ষ্ণীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সংকট মোকাবিলা করে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে। শনিবার দুপুরে লক্ষ্ণীপুরের রায়পুরে প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের নবীনবরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “আমরা ক্ষমতায় আসছি প্রায় সাত মাস। এই সাত মাসে সমস্ত কাজ আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন সংকটের কারণে একসঙ্গে অনেক কাজ করতে হচ্ছে। বিদেশি ঋণের টাকাও পরিশোধ করতে হচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “রাষ্ট্রের ১১টা ব্যাংকের টাকা লুট করা হয়েছে। দেশের মানুষের টাকা-পয়সা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।” তাঁর দাবি, এসব কারণে দেশের অর্থনীতিতে সংকট তৈরি হয়েছে এবং বর্তমান সরকারকে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ-গ্যাস নিয়েও অভিযোগ
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে এমপি আবুল খায়ের বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাত দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ খাতে একটি পার্শ্ববর্তী দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল।
তিনি বলেন, দেশের নিজস্ব গ্যাসসম্পদ উত্তোলনে দীর্ঘদিন যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ৩৩টি কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে এবং ১৫০ থেকে ১৫৫টি কূপ খননের জন্য বাজেট দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি কূপে গ্যাস পাওয়ার কথাও জানান তিনি।
বঙ্গোপসাগরের প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে জ্বালানি সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তাঁর ভাষ্য, বিদেশ থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ আমদানির পরিবর্তে নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “আগামী বাংলাদেশ তোমরাই।” তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও জ্ঞাননির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে তরুণদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে নবীন প্রজন্মকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। উদ্বোধক ছিলেন এমপি মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার ও রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া।
প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর কাজী ফারুকী সাহেবের একমাত্র পুত্র, বিশিষ্ট শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও প্রফেসর ডা. কাজী মো. নূর-উল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেড এম নজমুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, প্রফেসর কাজী ফারুকী কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, কলেজের অধ্যক্ষ নূরুল আমিন, ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার কাজী রাসেল, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, কাজী ফারুকী শিশু কাননের প্রধান শিক্ষক শফিউল আলম টিপুসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।