এডিস নিধনে সলিমপুরে সামাজিক প্রতিরোধ, মাঠে আসলাম চৌধুরী

এফএনএস (জহিরুল ইসলাম; সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
এডিস নিধনে সলিমপুরে সামাজিক প্রতিরোধ, মাঠে আসলাম চৌধুরী

সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে শুধু ফগিং নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ শুরু হয়েছে সলিমপুরে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সলিমপুর ইউনিয়নের লতিফপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার, মশক নিধনে ফগিং এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংসের কর্মসূচি চালানো হয়। ‘সচেতন হই, পরিচ্ছন্ন রাখি, ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি’ স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ।

শনিবার সকালেই লতিফপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় এলাকার বিভিন্ন সড়ক, বাড়িঘর ও আশপাশে মশক নিধনে ফগিং করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি অপসারণের আহ্বান জানানো হয়। নির্মাণাধীন ভবনসহ যেসব স্থানে পানি জমে এডিসের লার্ভা জন্মাতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কর্মসূচি পরিদর্শনকালে আসলাম চৌধুরী ফগিং কার্যক্রম দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক পরিবার ও প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফগিং মূলত উড়ন্ত মশা নিয়ন্ত্রণে সাময়িক ভূমিকা রাখে। কিন্তু বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিতে থাকা লার্ভা ধ্বংস না হলে কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন মশার বিস্তার ঘটতে পারে। এ কারণে বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা এবং উৎসস্থল ধ্বংসকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক মাসে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৫১৭ জন। এর মধ্যে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর-মাত্র ১৫ দিনে মারা গেছেন সাতজন। মৃতদের মধ্যে তিনজন শিশু। সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনায় পুরো সীতাকুণ্ড উপজেলাকে ডেঙ্গুর হটস্পট ঘোষণা করা হয়েছে। ভাটিয়ারী, সোনাইছড়ি, জেলেপাড়া, বাড়বকুণ্ড, ফুলতলা, বার আউলিয়া ও কলেজ রোডকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে সাত দিনের সরকারি ক্র্যাশ প্রোগ্রামও শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচিতে ১৬টি ফগার মেশিন ও কারিগরি দল মাঠে কাজ করছে। বিভিন্ন এলাকায় ফগিংয়ের পাশাপাশি এডিসের সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংসের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, কয়েক দিনের অভিযান বা ফগিংয়ে স্থায়ীভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। একটি এলাকায় অভিযান চালানোর পর অন্য এলাকায় যদি পানি জমে থাকে, পরিত্যক্ত পাত্র পড়ে থাকে কিংবা নালা-নর্দমা অপরিষ্কার থাকে, তাহলে সেখান থেকেই এডিসের বংশবিস্তার ফের শুরু হতে পারে। তাই সরকারি অভিযানের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নির্মাণাধীন স্থাপনায় নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের পরামর্শ, জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে পরিবারের কোনো সদস্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তার আশপাশের পরিবেশেও এডিসের প্রজননস্থল রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা জরুরি।

সীতাকুণ্ডে এখন সরকারি ক্র্যাশ প্রোগ্রামের পাশাপাশি সলিমপুর থেকে শুরু হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ের সামাজিক উদ্যোগ। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ ফগারের ধোঁয়া নয়, এডিসের জন্মস্থল কতটা নিয়মিতভাবে ধ্বংস করা যাচ্ছে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। এক দিনের অভিযান শেষ হয়ে গেলে যদি জমে থাকা পানি ও পরিত্যক্ত পাত্র পড়ে থাকে, তাহলে মশার বংশবিস্তারও থামবে না। তাই সাময়িক মশক নিধনের পাশাপাশি ধারাবাহিক উৎসস্থল ধ্বংস ও জনসম্পৃক্ততাই সীতাকুণ্ডের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে