কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একসাথে ৩ পুত্র সন্তান জন্ম দিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কল্পনার শিরোনামে গত রবিবার কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ এর নজরে এলে আজ সোমবার দুপুরে এক সাথে তিন পুত্র সন্তান জন্ম দেওয়া কল্পনা বেগম ও তার পরিবারকে নিজ দপ্তরে ডেকে নিয়ে ১০ হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। কল্পনা বেগম (২৫) নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ এলাকায় জায়দুল হকের স্ত্রী।
বর্তমানে কল্পনা বেগম তার দিনমজুর বাবার বাড়ি ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামে তিন সন্তানকে নিয়ে অবস্থান করছেন। কল্পনার স্বামী একজন বাকপ্রতিবন্ধী ও হোটেলে দিন মজুরের কাজ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিন সন্তানের জন্ম দেন কল্পনা। তিন সন্তানের নাম রাখা হয় হাসান, হোসাইন ও বেল্লাল। জন্মের পর হাসানের ওজন ২ কেজি এবং হোসাইন ও বেল্লালের ওজন ১ কেজি ৯০০ গ্রাম করে।
সন্তান ৩ টির বয়স একমাস পেরিয়েছে। সন্তান তিনটি সুস্থ থাকলেও কল্পনা বেগমের অপারেশন স্থলে ইনফেকশন হওয়ার একমাস থেকে তিনি অসুস্থ । বর্তমান তিন নবজাতক ও অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা খরচ ও খাবার জোগাতে গিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে ওই দিনমজুর পরিবারের।
কল্পনা বেগম জানান, বর্তমানে তার নিজের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার ওষুধ ও তিন নবজাতকের জন্য দুই প্যাকেট দুধ লাগে। তাতে প্রায় ৬০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে।
ইউএনও স্যার আমাকে আজ দশ হাজার টাকা দিয়েছেন। আমি খুব খুশি। আমার সন্তান তিনটিকে বাচাতে সকলের সহযোগিতা চাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ জানান,পরিবারটির খোঁজ খবর নিয়ে প্রথমে তিন হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। আজ (সোমবার) ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।