কুড়িগ্রামের রাজারহাটে জমি-জমা নিয়ে কোন্দলের জের ধরে এক কৃষকের ৫০ শতক আমন ধানক্ষেত বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রতিপক্ষরা ধানে শীষ আসার সময় আগাছানাশক জাতীয় পদার্থ প্রয়োগ করে ফসল বিনষ্ট করে বলে অভিযোগ ওই কৃষকের। ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭ বার তাঁর ফসল বিনষ্ট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা ফসল ও গাছপালা নষ্টের অভিযোগ করেছেন প্রতিপক্ষ রহিদুল ইসলাম। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতি শোলাগাড়ি গ্রামে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক হাবিবুর রহমান ওই গ্রামের শামছুল হকের ছেলে।
হাবিবুর রহমান জানান, তাঁর বাবা মৃত মোজাম্মেল হকের কাছ থেকে ৪৪ দশমিক ৫ শতক জমি কিনেছিলেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মোজাম্মেল মারা যাওয়ার পর তাঁর ছেলে রহিদুল ইসলাম জমিটি নিজের বলে দাবি করেন। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে।
হাবিবুরের দাবি, চলতি মৌসুমে সঞ্চয় ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৫০ শতক জমিতে আমন ধান আবাদ করেন। এতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু শীষ আসার সময় আগাছানাশক প্রয়োগ করে ধান নষ্ট করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ফসল নষ্ট হওয়ায় তাঁর প্রায় ১০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হাবিবুর আরও বলেন, “এবারও থানায় অভিযোগ করেছি। আমি ফসল নষ্টের বিচার চাই।” তাঁর দাবি, ২০২২ সালে প্রায় দেড় একর এবং ২০২৫ সালে ৪০ শতক পাকা ধানও নষ্ট করা হয়েছিল। এসব ঘটনায় আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে রহিদুল ইসলাম বলেন, বিরোধপূর্ণ জমির বৈধ কাগজপত্র তাঁর কাছে রয়েছে এবং ওই জমিতে হাবিবুরের মালিকানা নেই। তাঁর দাবি, ২০২১ সাল থেকে তাঁরও বিভিন্ন ফসল ও গাছপালা নষ্ট করা হচ্ছে।
রহিদুলের অভিযোগ, গত ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর সিমের মাচা, মরিচ, পেঁপে ও হলুদের গাছ নষ্ট করা হয়েছে। ২০২১ সালে আটটি গাছ কেটে নেওয়া হয় এবং ২০২৫ সালে লিচু ও আমগাছসহ বিভিন্ন ফসল নষ্টের ঘটনায় মামলা করেছেন বলেও তিনি জানান । এসব ঘটনায় তাঁর প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন রহিদুল।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের জমিজমা নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ৪১ বারের বেশি এবং থানায় ওসিসহ ১৩ বার বসেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্তমানে জমি ও ফসলহানি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।
রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, হাবিবুর বিস্তারিত জানালে অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উপজেলা কৃষি অফিসার তুষার কান্তি রায় বলেন, কেউ ফসল বিনষ্ট করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনহত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তবে এ বিষয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ মো. রওশন কবির বলেন, “জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে ফসল নষ্টের ঘটনা দুঃখজনক। এ ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে ঘটনা কমতে পারে।”#