নীলফামারীর সৈয়দপুরের নাগরিক সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনস্বার্থের নানা বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরে আলোচনায় এসেছেন শহরের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেইন। শহরের বিভিন্ন এলাকার সমস্যা সরেজমিনে তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিয়মিত পোস্ট করেন তিনি। তাঁর এসব পোস্ট অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
সৈয়দপুর শহরের সড়ক, কালভার্ট, ড্রেন, বিদ্যুতের সার্ভিস তার চুরি, দৃষ্টিনন্দন সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা নাগরিক সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে লেখেন মোশাররফ। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী ক্ষতিকর ও অবৈধ ট্রাক্টর-ট্রলির বিষয়ে সতর্ক করে এর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
শুধু অবকাঠামোগত সমস্যাই নয়, মাদক, যুবসমাজ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো সামাজিক বিষয় নিয়েও তাঁর লেখালেখি রয়েছে। মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখা, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিয়েও তিনি আলোচনা-সমালোচনা করেন। দলের ভালো কর্মকাণ্ডের প্রশংসার পাশাপাশি ভুল-ত্রুটি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তাঁর পোস্টে রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে জনস্বার্থ ও স্থানীয় সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পায় বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করেন। সৈয়দপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি নিয়মিত মতামত দেন। পুলিশ প্রশাসনের ভালো উদ্যোগের প্রশংসা করার পাশাপাশি কোথাও কোনো সমস্যা বা জনভোগান্তির অভিযোগ থাকলে সেটিও তুলে ধরেন। একইভাবে সৈয়দপুরের উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর ক্যাম্পগুলোর বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়ও তাঁর লেখায় উঠে আসে। মোশাররফের লেখালেখির আরেকটি দিক তিনি নিজে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সমস্যাগুলো দেখিয়ে ছবি বা ভিডিওসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন। সৈয়দপুরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন স্থানীয় সমস্যা দ্রুত মানুষের সামনে তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে নাগরিক সমস্যাগুলো আনতে এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সামাজিক মোশাররফের ফেসবুকভিত্তিক এসব কর্মকাণ্ডে সৈয়দপুরের নাগরিক সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় নিয়মিত আলোচনায় আসছে। স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যম হিসেবেও তাঁর এ ধরনের লেখালেখি গুরুত্ব পাচ্ছে।